Mahua Maitra

স্বাধীনতা সংগ্রামীরা গুলি খেয়েছেন, আপনি ডিমে ভয় পাচ্ছেন! মহুয়ার আর্জিতে সায় দিল না সুপ্রিম কোর্ট, সশরীরে থানায় হাজিরা দিতে নির্দেশ

তবে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সাংসদের ডিমকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এরপরই মহুয়ার পক্ষ আবেদনটি তুলে নেওয়া হয়।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৪

ধর্মীয় অবমাননার মামলায় সশরীরে থানায় হাজিরা দিতেই হবে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। সুপ্রিম কোর্ট ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দেয়। পরে তাঁর আইনজীবী সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। ডিম ছোড়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে ভার্চুয়াল হাজিরার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সাংসদের ডিমকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এরপরই মহুয়ার পক্ষ আবেদনটি তুলে নেওয়া হয়।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে নদিয়ার হোগলাবেড়িয়া থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়ে জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়াকে সশরীরে হোগলাবেড়িয়া থানায় হাজিরা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করেনি।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, থানায় হাজিরা দিতে তাঁর মক্কেলের আপত্তি নেই। তবে সেই হাজিরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। এর জবাবে বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন করেন, ‘‘কেন? তিনি সাংসদ বলে?’’ তখন মহুয়ার আইনজীবী দাবি করেন, আগের দিন ওই এলাকায় তাঁর মক্কেলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল এবং হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। তাই থানায় সশরীরে হাজিরা দিতে গেলে ফের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আদালত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগ্রামের উদাহরণ টেনে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।

বিচারপতি দত্তের মন্তব্য, ‘‘রাজনীতিতে যখন নেমেছেন, ডিমের ভয় পাচ্ছেন কেন? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন।’’ সামান্য ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কোনও সাংসদের ভয় পাওয়ার কারণ হতে পারে না বলেই সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে। এরপরই মহুয়ার আইনজীবী আবেদন প্রত্যাহারের আর্জি জানান, যা বিচারপতিরা মঞ্জুর করেন। ফলে ধর্মীয় অবমাননা মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল থাকল। সেই অনুযায়ী, আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়া মৈত্রকে সশরীরে নদিয়ার সংশ্লিষ্ট থানায় হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

গত ১ জুলাই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র নদিয়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়। বোরখা পরা নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন মহুয়া। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতার দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতা এই ধরনের হামলার অভিযোগ করেছেন। অন্য দিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে ডিম ছোড়ার ঘটনার বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির অংশ নয় এবং বিজেপি কর্মীরা এর সঙ্গে জড়িত নন। যদিও বিজেপির একাংশ এই ঘটনাগুলিকে ‘গণরোষ’-এর বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, ‘গণরোষ’-এর আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।


Share