Human Trafficking

বাংলাদেশে পাচার হওয়া তরুণীকে উদ্ধার মামলার তদন্তভার নেবে গোয়েন্দারা, দীপঙ্করকে নিয়ে শিয়ালদহে খোঁজখবর নিল পুলিশ

এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল বলেন, “পুলিশ কাজ করছে। নেপথ্যে যে বা যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:১৮

শ‍্যামপুকুরে থেকে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তরুণী। অভিযোগ, তাঁকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে অপহরণ করে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় থানা এখনও কোনও কুলকিনারা করতে পারেনি। তাই এই ঘটনার তদন্ত লালবাজারের মানব পাচার দমন শাখার হাতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল। অন‍্য দিকে, শ‍্যামপুকুর থানার পুলিশ শুক্রবার সকালে দীপঙ্করকে নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে যায়।

লালবাজার  জানিয়েছে, শহরে এমন ঘটনা কার্যত বিরল। এর আগে এমন ঘটনা আগে কবে ঘটেছে তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না। নিখোঁজ তরুণী মধুমিতার সঙ্গে কে যোগাযোগ করেছিল তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই কারণে মধুমিতার সমাজমাধ‍্যমের কথপোকথনের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে ব‍্যক্তি তাঁর সঙ্গে কাজ দেবে বলে যোগাযোগ করেছিল, তার আইপি অ্যাড্রেস চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে নাম ব‍্যবহার করে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তা-ও ভুয়ো বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে তরুণীর মোবাইল ফোন কোথায় গেল, কোথায় সেই ফোনের শেষবারের মতো ব‍্যবহার করা হয়েছে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে সাহায্য নিতে পারে কলকাতা পুলিশ।

অন‍্য দিকে, শুক্রবার সকালে শ‍্যামপুকুর থানার পুলিশ মধুমিতা মিস্ত্রি মন্ডলের ভাই দীপঙ্করকে নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে যান। সেখানে গিয়ে গত ১ জুলাইয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হয়। নিখোঁজ তরুণীর পরিবার সূত্রের খবর, তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। মধুমিতাকে সিসি ক‍্যামেরায় দেখা যায়নি। এর পরেই রহস্য দানা বাধছে। তাহলে কি সড়কপথে মধুমিতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই সমস্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিখোঁজ হওয়ার দিনে মধুমিতার গতিবিধি সম্পর্কে জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল বলেন, “পুলিশ কাজ করছে। নেপথ্যে যে বা যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

উল্লেখ্য, গত মাসের ১ জুলাই চাকরি করতে বেরিয়ে শ‍্যামপুকুর থেকে নিখোঁজ হন মধুমিতা মিস্ত্রি মন্ডল নামে এক তরুণী। তাঁর ভাই দীপঙ্করের বক্তব্য, মধুমিতার তামিলনাড়ুতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েক দিনের পরেই বোনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এর পরে গত ১৮ জুলাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের নম্বরের প্রথমটি ‘+৮৮’ দিয়ে শুরু হয়। তা বাংলাদেশের। দীপঙ্কর জানান, গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতাল থেকে তাঁর বোন ফোন করেছিলেন। সেখান থেকে মধুমিতা তাঁর ভাই দীপঙ্করকে বলেন, “আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার ব‍্যবস্থা কর।” মধুমিতা আরও জানায়, তাঁকে অপহরণ করে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।


Share