TMC Political Chaos

দেবোত্তর সম্পত্তি দখল থেকে সেচ দফতরের জমিতে এনজিও-স্কুল নির্মাণের অভিযোগ, মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সিকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, রতুয়া বিডিও অফিসের সামনে তাঁদের প্রায় ৮০ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। সেই জমির মধ্যে প্রায় ৬০ শতক আব্দুর রহিম বক্সি-সহ মোট আটজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।

আব্দুর রহিম বক্সি
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৫

মালদহের মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সির বিরুদ্ধে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একদিকে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, অন্য দিকে সরকারি জমি দখল করে এনজিও ও বেসরকারি স্কুল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। উভয় অভিযোগই অস্বীকার করেছেন বিধায়ক। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রথম ঘটনায়, মালদহের রতুয়া থানার রুকুন্দিপুর এলাকার বাসিন্দা শকুন্তলা ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, রতুয়া বিডিও অফিসের সামনে তাঁদের প্রায় ৮০ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। সেই জমির মধ্যে প্রায় ৬০ শতক আব্দুর রহিম বক্সি-সহ মোট আটজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।

শকুন্তলা ঘোষের ছেলে দাবি করেন, রুকুন্দিপুরে তাঁদের একটি মন্দির রয়েছে এবং বিডিও অফিস সংলগ্ন ওই জমি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সালেই জমিটি দখল হয়ে যায়। এরপর একাধিকবার প্রশাসন ও পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সে সময় আব্দুর রহিম বক্সি তৃণমূলের বিধায়ক এবং জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি, অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের বিভিন্ন সময়ে হুমকিও দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর আরও বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর ফের থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর মা। তাঁদের দাবি, মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আব্দুর রহিম বক্সি। তাঁর দাবি, “যে জমির কথা বলা হচ্ছে, সেই বিষয়ে শকুন্তলা ঘোষের সঙ্গে আগেই সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। এখন কেন আবার অভিযোগ করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

অন্য দিকে, একই বিধায়কের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগও সামনে এসেছে। আরএসপির জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পান্ডে অভিযোগ করেছেন, যে জমিতে আব্দুর রহিম বক্সির এনজিওর দফতর ও একটি বেসরকারি স্কুল গড়ে উঠেছে, সেটি সেচ দফতরের জমি।

সর্বানন্দ পান্ডের দাবি, প্রয়াত গনি খান চৌধুরী রাজ্যের সেচমন্ত্রী থাকাকালীন সেখানে সেচ দফতরের একটি ইনস্পেকশন বাংলো তৈরি হয়। পরে বামফ্রন্ট আমলে সেটির সংস্কার করা হয়। বাংলোর সংলগ্ন কিছু জমি বাম আমলে আব্দুর রহিম বক্সির এনজিও সংস্থাকে লিজ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই লিজ আর নবীকরণ করা হয়নি। অভিযোগ, এরপরও অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হয় এবং বর্তমানে ওই জমিতেই এনজিওর দফতর ও একটি বেসরকারি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বানন্দ পান্ডে জানান, এর আগেও তিনি একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর ফের থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগগুলিকেও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আব্দুর রহিম বক্সি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, “এতদিন তৃণমূলের পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এই ল্যান্ড মাফিয়ারা যা খুশি করেছে। এ বার এরা আইনের মুখোমুখি হবে। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”

মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, দুটি অভিযোগই তাঁদের কাছে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share