Drug Smuggling

কসবায় ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় নাগপুর থেকে গ্রেফতার তিলজলার মুসা, ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হল কলকাতায়, পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

মুসাকে চার দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে শুক্রবার সকালে কলকাতায় আনা হয়েছে। আলিপুর আদালতে মুসাকে হাজির করানো হয়েছে। আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৯

গত মাসে কসবার টেগর রোডে ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় নাগপুর থেকে মুসা আসগরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের বয়স ২৬ বছর। শুক্রবার মুসাকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে। ধৃতকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে। আদালত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই রাতে প্রথমে কসবা থানা এলাকার টেগর পার্কের শঙ্কর গেস্ট হাউসের একটি ঘরে অভিযান চালায় লালবাজারের মাদক পাচার দমন শাখার গোয়েন্দারা। সেখান থেকে হাসান আলি (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে ৫৫৮ গ্রাম ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে হাসানের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। একটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

ধৃত হাসানের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হয়। হাসানকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তিলজলা থানার এলাকায় চৌবাগা রোডে আরও একটি ঠিকানার হদিশ মেলে। সেটাও হাসানের দ্বিতীয় ঠেক বলে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এরপরে হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে ছ’কেজি ৪৪৫ গ্রাম বিদেশি হাইড্রোফোনিক গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল বলেছিলেন, দুই জায়গা মিলিয়ে ৭ কেজির বেশি ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য দু’কোটির টাকার বেশি। পুলিশ জানায়, হাসান তার সহযোগী মুসা আজগরের কাছ থেকে আট কেজি ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা সংগ্রহ করেছিল। তা শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পুরোটা ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই ধরা পড়ে হাসান আলি।

পুলিশ জানিয়ে ছিল, অভিযুক্ত মুসা তাইল‍্যান্ডের ব‍্যাঙ্কক থেকে ১২ কেজি ‘হাইড্রোফোনিক’ গাঁজা নিয়ে এসেছে। এই হাইড্রোফোনিক গাঁজা মূলত তাইল‍্যান্ডের ব‍্যাঙ্কক থেকে ভারতে ঢোকে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে হাসানের ওই সহযোগী মুসা আসগর পলাতক ছিল। মুসা আজগর আদতে তিলজলার বাসিন্দা। 

কোনও ভাবেই মুসার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ সূত্রের খবর, মুসার মোবাইল নম্বরের টাওয়ারের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। তা মেলে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে একটি বস্তিতে। এক সপ্তাহ আগে মাদক পাচার দমন শাখার পুলিশ নাগপুর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ অভিযান চালায়। সেখান থেকেই মুসা আসগরকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ছ’কেজি হাইড্রোফোনিক গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়। নাগপুর পুলিশও একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশের দাবি, ব‍্যাঙ্কক থেকে হাইড্রোফোনিক গাঁজা মুম্বইয়ে আসগরই আনে। সেখান থেকে ভাগাভাগি করে হাসানকে দেয়। হাসান তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসে। কিন্তু মুসা রাজ্যেই আসেনি। সেখান থেকেই বিদেশি গাঁজা বিক্রি করতে নাগপুরে চলে যায়। নাগপুর পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ছ’কেজির বেশি হাইড্রোফোনিক গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নাগপুর পুলিশও একটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। মুসাকে চার দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে শুক্রবার সকালে কলকাতায় আনা হয়েছে। আলিপুর আদালতে মুসাকে হাজির করানো হয়েছে। আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।


Share