Humayun Kabir

সিভিক ভলেন্টিয়ার থেকে রাজনীতির ময়দানে মুজকেরা বিবি, বৈষ্ণবনগরে হুমায়ুন কবিরের নতুন দলের প্রার্থী ঘিরে চর্চা

বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নতুন দলের হয়ে মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মুজকেরা বিবি। প্রার্থীপদ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী লড়াইটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মুজকেরা বিবি।

মুজকেরা বিবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৩৫

সিভিক ভলেন্টিয়ার থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে। বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নতুন দলের হয়ে মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মুজকেরা বিবি। প্রার্থীপদ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে কোনও আফসোস নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। বরং নির্বাচনী লড়াইটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মুজকেরা বিবি।

প্রার্থী ঘোষণা হতেই মালদহের পুলিশ ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও নতুন দল হওয়ায় এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—দু’পক্ষই।

বৈষ্ণবনগর ব্লকের বিননগর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা মুজকেরা বিবি। তাঁর স্বামী কুরবান আনসারী একজন স্বেচ্ছাসেবী সমাজ সংস্কারক। কুরবান আনসারীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস দিয়ে।

মুজকেরা বিবি জানান, রাজনীতিতে এই প্রথম নামলেন। হুমায়ুন কবির তাঁর রাজনৈতিক গুরু। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই আমাকে সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। কাজ করার মতো পরিবেশ ছিল না। তাদের দলের সর্বপ্রধান বিধায়ক হুমায়ুন কবির যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ীই কাজ করবেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

এদিকে কুরবান আনসারীর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের মূল লড়াই বিজেপির সঙ্গে। তৃণমূলকে আমরা কোনও ফ্যাক্টর মনে করছেন না। ওরা তৃতীয় স্থানে চলে যাবে। গত পাঁচ বছরে বৈষ্ণবনগর বিধানসভায় কী কাজ হয়েছে, মানুষ তার জবাব দেবে। সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে গিয়েছে, কিন্তু কাজ করেনি—এই কথা জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে মিমের মালদহ জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, কে কোন দল করছে, তাতে আমাদের মাথাব্যথা নেই। ভোট হবে, রেজাল্টের দিন ব্যালট বাক্সেই বোঝা যাবে মানুষ কাকে সমর্থন করেছে।

অন্যদিকে মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশীষ কুন্ডু কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, 'হুমায়ুন কবির একটা বদ্ধ উন্মাদের মতো কথা বলছেন। একটা পাগল মানুষ সকালে একটা কথা বলে বিকেলে একটা কথা বলে। প্রতিদিন তাঁর বক্তব্য চেঞ্জ হচ্ছে। তিনি নিজে যখন ভোটে দাঁড়াবেন তখন নোডার থেকেও ভোট কম পাবেন ।

দক্ষিণ মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি তারক ঘোষের বক্তব্য, হুমায়ুন কবিরের দল আসলে তৃণমূল কংগ্রেসেরই একটি অংশ। তাদের লক্ষ্য একটাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই সরকারকে বিসর্জন দেওয়া।

সব মিলিয়ে বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, আর মুজকেরা বিবির প্রার্থী হওয়া সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share