Drug Trafficking

স্কুল ব্যাগে মাদক, কিশোরদের দিয়ে পাচার! মালদহ জুড়ে ভয়ংকর চক্রের পর্দাফাঁস

সম্প্রতি ইংরেজবাজার এলাকার কামারপুর এলাকায় মালদহ জেলা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি কারখানা থেকে ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে। অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড থেকে মাদক তৈরির কাঁচামালা উত্তরবঙ্গের মালদহে এসে পৌছোয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩৩

মাদক দ্রব্য স্কুল ব্যাগে! এর ফলে পুলিশের নজরে খুব সহজের ফাঁকি দেওয়া যায়। এই ঘটনাটি শুনতে অনেকটা নাটক অথবা সিনেমার মতো লাগলেও এমনই বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে। সেখানে স্কুলের খুদেদের দিয়েই চলছে বিরাট মাদক কারবার চক্র। বর্তমানে উত্তরবঙ্গে মাদক ব্যবসা একটি শিল্পের আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি, অন্যান্য রাজ্য থেকে কাঁচামাল নিয়ে এসে মাদক তৈরী করা হচ্ছে মালদহে।

সম্প্রতি ইংরেজবাজার এলাকার কামারপুর এলাকায় মালদহ জেলা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি কারখানা থেকে ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে। অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড থেকে মাদক তৈরির কাঁচামালা উত্তরবঙ্গের মালদহে এসে পৌঁছয়। তারপর সেই কাঁচামাল দিয়েই নানাবিধ মাদক সামগ্রী তৈরি হয়। কুমারপুরের মতোই গুপ্ত কারখানায় মাদক তৈরির পর তা সরাসরি চলে যায় পূর্ব ভারতে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা রাজ্যে মাদক চক্রের পাণ্ডা একজনই, নাম এনারুল শেখ। গত জানুয়ারি মাসেই কলকাতার এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মাদক কারবার করেই অভিযুক্ত হাজার-হাজার কোটি টাকারও বেশি মুনাফা তৈরি করেছেন।

তবে এনারুল একা নন, সম্প্রতি তাঁকে জেরা করেই পুলিশ আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের গোয়া থেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ইতিমধ্য়ে মণিপুর, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ নানাবিধ রাজ্য থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি। শুধুই তো প্যাকেট-প্যাকেট মাদক পাচার হচ্ছে এমন নয়। ছোট ছোট পুরিয়া করেও স্থানীয় এলাকায় কেরিয়াররা মাদক বিক্রি করছে। আমরা অভিযান চালিয়ে তাঁদেরও অনেককে গ্রেফতার করেছি।”

মালদহ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক তৈরী করার পর সেগুলিকে লোকালয়ে বিক্রি করার জন্য খুদে স্কুল-পড়ুয়ারা সেটিকে স্কুল ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছে। ১২ থেকে ১৪ বছরের নাবালকদের বাছাই করে এই কাজে পাচারকারীরা তাদের ব্যবহার করছে। বই-খাতার মাঝেই পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার-হাজার টাকার মাদক। মাধ্যম হিসাবে কাজ করছেন সদ্য মা হয়েছেন এমন মহিলারাও। সেক্ষেত্রে বেবি ফুডের আড়ালেই পাচার হচ্ছে মাদক। কিন্তু বিনিময়ে কী পাচ্ছেন তাঁরা?

এই পাচার করার বিনিময়ে কারোও অর্থ লাভ হচ্ছে। আবার কেউ বা ব্রাউন সুগার অথবা হিরোইন পাচারের বদলে ব্রাউন সুগার বা হিরোইনই পাচ্ছেন। এই পাচারচক্র থেকে উদ্ধার হওয়া এক নাবালককে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সে জানায়, “আমাদের টাকা দিত না, পরিবর্তে মাদক খাইয়ে দিত।” সব মিলিয়ে ক্ষতি হচ্ছে শৈশবের, ক্ষতি হচ্ছে সমাজের। কিন্তু এই ‘মাদক শিল্প’ ফাঁদ তৈরি হল কীভাবে? সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশও।


Share