Coochbehar Police Super Transferred in Amid Political Crisis

কোচবিহারের ঘটনার পরে জেলা পুলিশ সুপার দ‍্যুতিমানকে ভট্টাচার্যকে সরাল নবান্ন, নতুন দায়িত্বে সন্দীপ কাঁড়া

পুলিশকর্তার এহেন আচরণে মুখ পুড়ছে রাজ‍্য সরকারের। এমনকি দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যকে ‘গুন্ডা’ বলেও দাগীয়ে দিয়েছেন রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছিল। এ বার সেই বিতর্কের মুখে পড়ে চার দিনের মাথায় সরানো হল তাঁকে।

সরানো হল দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যকে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৫

কোচবিহার-কান্ডের জের! সারানো হল কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যকে। কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার হলেন সন্দীপ কাঁড়া। কালীপুজোর রাতে বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র প্রতিবেশী এক মহিলা-সহ নাবালকদের মারধরের অভিযোগে ওঠে পুলিশকর্তা পুলিশ সুপার দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে নবান্ন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার পদে আনা হল সন্দীপ কাঁড়াকে। সন্দীপ আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিম) ছিলেন। দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যকে পাঠানো হয়েছে ব‍্যারাকপুরে রাজ‍্য পুলিশের বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে। প্রসঙ্গত, সোনওয়ানে কুলদীপ সুরেশকে আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের নতুন ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিম)-এর দায়িত্ব দিয়েছে নবান্ন।

কোচবিহার পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে পুলিশ সুপারের বাংলো। সোমবার কালীপুজোর রাতে বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। পুলিশ সুপারের বাংলো পাশেই থাকেন মল্লিকা কার্জি ও তাঁর স্বামী। মল্লিকা পেশায় আইনজীবী। তাঁর স্বামী, পার্থ রায় পেশায় স্কুলের শিক্ষক। তাঁর দাবি, সোমবার পুজোর পরে তাঁর বাড়ির কয়েক জন নাবালক বাজি পোড়াচ্ছিল। অভিযোগ, হঠাৎ একটি হাফ প্যান্ড, স্যান্ডো গেঞ্জি এবং মাথায় ফেট্টি বেঁধে কয়েক জন পুলিশকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সুপার তাঁর বাড়ির সামনে যান। এর পরেই মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, বাজি পোড়ানোয় অসুবিধার কথা জানিয়ে তাঁদের এক বারও সতর্ক করা হয়নি।

মহিলা আইনজীবী এবং তাঁর পরিবারের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। তিনি পাল্টা বলেন, “কালীপুজোর দিনে সন্ধ্যা থেকেই আমার আবাসনের পাশে ওরা বাজি ফাটাচ্ছিল। আমার গার্ড গিয়ে ওঁদের প্রথমে নিষেধ করে। রাত ১টা পর্যন্ত টানা বাজি পোড়ান ওঁরা। আমার স্ত্রীও বিষয়টি লক্ষ্য করে। এর পরে আমার গার্ড গিয়ে ওদের ফের নিষেধ করে। মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।”

সেই সংক্রান্ত একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার তা তোলপাড় জেলা রাজনীতি। পুলিশ সুপারের পদত্যাগের দাবিতে স্থানীয়েরা জেলা পুলিশের দফতর অভিযান করে। ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। বিজেপিও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

পুলিশকর্তার এহেন আচরণে মুখ পুড়ছে রাজ‍্য সরকারের। এমনকি দ‍্যুতিমান ভট্টাচার্যকে ‘গুন্ডা’ বলেও দাগীয়ে দিয়েছেন রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছিল। এ বার সেই বিতর্কের মুখে পড়ে চার দিনের মাথায় সরানো হল তাঁকে।


Share