Murder Case

নরমাংস খেতেই শ্মশানবাসীকে খুন! দিনহাটার ঘটনায় গ্রেফতার এক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

ঘটনায় ফিরদৌস আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নরমাংস ভক্ষণের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়ে থাকতে পারে, যদিও ঘটনার পূর্ণ সত্য জানতে তদন্ত চলছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার
  • শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:০১

কোচবিহারের দিনহাটায় শ্মশানে শ্মশানবাসীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম ফিরদৌস আলম। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নরমাংস ভক্ষণের উদ্দেশ্যেই ওই ব্যক্তিকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তার পরে দেহ বাড়ির পাশে কলতলায় পরিস্কার করা হয়। আরও তথ্য জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

গত শনিবার দিনহাটার কুরসার হাট সংলগ্ন শ্মশান এলাকা থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে গলা ও ঘাড়ে গভীর ক্ষতচিহ্ন নজরে আসে। এর ভিত্তিতেই পুলিশের প্রাথমিক ধারণা হয়, তাঁকে খুন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শুক্রবার রাতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। মৃতের গলা এবং ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকা। আশপাশে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। ফলে তদন্তের শুরুতে সমস্যায় পড়ে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই শ্মশানেই থাকতেন। এলাকাবাসীদের মতে, তিনি সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে তাঁর নাম ও পরিচয় সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও পায়নি পুলিশ।  

দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র জানান, “খুব নৃশংস ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত বীভৎস একটি ঘটনা।” একজন অজ্ঞাতপরিচয় ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে কেন এই ভাবে খুন করা হল, তা নিয়ে প্রথমে ধন্দে পড়েছিলেন তদন্তকারীরা। পরবর্তীতে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, ফিরদৌস আলম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এসডিপিও আরও জানান, “এই হত্যার পিছনে কোনও সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। শুধু খুন করার জন্যই খুন করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, হত্যার পর মৃতদেহটি অভিযুক্ত নিজের বাড়ির পাশে একটি কলতলায় নিয়ে যান। সেখানে দেহটি পরিষ্কার করা হয়।” তদন্তে এমন কিছু তথ্য মিলেছে, যাতে নরমাংস ভক্ষণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ‘ক্যানিবালিজম’ অত্যন্ত বিরল একটি অপরাধ। তবে এই ঘটনায় সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে পুলিশ।


Share