DA Case At Supreme Court

বৃহস্পতিবার মহার্ঘভাতা নিয়ে রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট, আশায় প্রহর গুনছেন লক্ষাধিক রাজ‍্য সরকারি কর্মীরা

শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের বক্তব্য আদালত জানতে চায়। সেই সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা দেওয়ার আলাদা আইন থাকলে, তা অন্য বিষয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে রাজ্যকেও মহার্ঘভাতা দিতে হবে বলে নিদৃষ্ট কোনও আইন নেই।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৪

লক্ষীবারে লক্ষীলাভ কি হবে? বৃহস্পতিবার মহার্ঘভাতা মামলা নিয়ে রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। আগেই এই মামলায় সওয়াল-জবাব প্রক্রিয়া মিটে গিয়েছিল। শীর্ষ আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শীর্ষ আদালতের ১১ নম্বর এজলাসে মামলার রায় ঘোষণা হবে। বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। রাজ্য সরকারের লক্ষ লক্ষ কর্মী রায়ের আশায় প্রহর গুনছেন।

গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে ডিএ মামলার শুনানিপর্ব শেষ হয়েছিল। দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকার এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছিল। বর্তমানে রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পান। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ৪০ শতাংশ ফারাক রয়ে গিয়েছে এ বার কি বকেয়ে মহার্ঘভাতা তাঁরা পাবেন? বৃহস্পতিবারে আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারের কর্মীরা।

এর আগে, শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের বক্তব্য আদালত জানতে চায়। সেই সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা দেওয়ার আলাদা আইন থাকলে, তা অন্য বিষয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে রাজ্যকেও মহার্ঘভাতা দিতে হবে বলে নিদৃষ্ট কোনও আইন নেই। রাজ্যগুলি ভিন্ন ভিন্ন হারে তাঁদের কর্মীদের মহার্ঘভাতা দেয়। আর যদি কেন্দ্রীয় হারেই মহার্ঘভাতা দিতে হয়, তাহলে দেশের সব রাজ্যকে সেই মর্মে নোটিস দিতে হবে বলে জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। 

ডিএ নিয়ে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, জীবনযাত্রার খরচ-খরচা, মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা, এ সবের উপর নির্ভর করে মহার্ঘভাতা। সেই কারণে এক এক জায়গায়, মহার্ঘভাতার হার এক এক রকম হয়। কিন্তু রাজ্যের এই দাবি মানতে নারাজ ছিল রাজ্যের সরকারি কর্মীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

উল্লেখ্য, গত বছরই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা মেটানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে প্রবল আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটাতে গেলে বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে। রাজ্য সরকারের ‘কোমর ভেঙে যাবে’। এর পর, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে বলা হয়, ২০০৯ সালের পয়লা জুলাই থেকে ২০১৫-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে মেটাতে হবে। কিন্তু বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটাতে আরও ছ'মাস সময় চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্য সরকার আবেদন করে।

এই গোটা মামলায় মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, বিভিন্ন রাজ্যের নিয়ম ভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গের নিয়ম ছত্তীসগঢ়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ ২০১০ সাল পর্যন্ত নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করেছে। এরপর ২০১০ সালের নীতি থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্য সরকার যে নিয়ম মেনে চলত, এখন তা অনুসরণ করা হয় না। ট্রাইব্যুনাল এবং কলকাতা হাই কোর্ট যে তাঁদের যুক্তি সমর্থন করেছে, তা-ও জানান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

এ বার সেই পর্ব পেরিয়ে অবশেষে বকেয়া মহার্ঘভাতার নিয়ে মামলায় রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বকেয়া মহার্ঘভাতা কি পাবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঞ্চিত কর্মীরা? লক্ষীবারে লক্ষীলাভ হবে কি না কালই স্পষ্ট করে দেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।


Share