Price Hike

চিনি-তেল-ডাল-আটার দামে আগুন! মাসের বাজারে বাড়ল খরচ, মূল্যবৃদ্ধি রুখতে শহরজুড়ে ইবির অভিযান

গত এক মাসে খোলা সর্ষের তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়েছে। প্যাকেটজাত সর্ষের তেল এবং সাদা ভোজ্য তেলের দামও তুলনামূলক বেশি হারে বেড়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২

বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই চড়া কাঁচা সবজির দাম। তার সঙ্গে এ বার বাড়ল মুদি দোকানের মাসকাবারি খরচও। চিনি, ভোজ্য তেল, ডাল, আটা-ময়দা-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় একাধিক পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসারের বাজেটে চাপ আরও বেড়েছে।

এর মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত এক মাসে খোলা সর্ষের তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়েছে। প্যাকেটজাত সর্ষের তেল এবং সাদা ভোজ্য তেলের দামও তুলনামূলক বেশি হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধের জেরে আমদানিতে তৈরি হওয়া জটিলতার প্রভাবেই সাদা ভোজ্য তেলের দাম এতটা বেড়েছে।

ডালের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্তের রোজকার ভাত-ডাল-তরকারির পাতেও পড়ছে বাড়তি খরচের চাপ।

আটা-ময়দার দামও পিছিয়ে নেই। গত এক মাসে কেজিতে প্রায় দুই থেকে তিন টাকা আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত আটার দাম আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে। যদিও তুলনামূলক ভাবে খোলাবাজারে চালের দাম এখনও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ভোজ্য তেল, ডাল-সহ একাধিক জরুরি পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সংসার চালাতে সাধারণ মানুষ কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুত কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না করা হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহলের।

চিনির দামই সবচেয়ে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত মাসেও খুচরো বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৫২-৫৩ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫-৭০ টাকায়। পাইকারি বাজারেও চিনির দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ৬০-৬২ টাকা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকার দ্রুত কোনও পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতির নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ সরকারের নজরে এসেছে বলে সোমবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মূল্যবৃদ্ধি রুখতে তিনি প্রতিটি বাজারে নজরদারি নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের পরদিনই দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার বড় বড় বাজারে অভিযান চালাল ইবি-র প্রায় দশটি টিম। শুধু চিনি নয়, কোথাও কেউ অবৈধভাবে চাল, তেল মজুত করছে কি না, তাও ইবি আধিকারিকরা খতিয়ে দেখেন।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরই প্রশাসন তৎপর হয়। সোমবার রাতেই লালবাজারের তরফে বাজার পরিদর্শনের জন্য ইবির ১০টি দল গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন বাজারে ইবির আধিকারিকরা অভিযান শুরু করেন। শিয়ালদহের কোলে মার্কেট থেকে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার একাধিক বাজারে দোকানে দোকানে গিয়ে তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পণ্যের দাম, মজুত এবং বিক্রির পরিস্থিতি নিয়ে আধিকারীকেরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। শুধু কলকাতাতেই নয়, জেলাগুলিতেও বাজারে বাজারে প্রশাসনিক অভিযান চলে। প্রশাসনিক কর্তারা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মাছের বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেলেও হানা দেন। বেআইনি ভাবে পণ্য মজুত করা হচ্ছে কি না, তার পাশাপাশি খাদ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, দ্রুত চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। বেআইনিভাবে চাল ও চিনি মজুত করে রাখার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “লিকেজ কোথায় আছে, পেয়ে গিয়েছি। আমরা ঠিক করে দেব। শক্তিশালী সরকার হয়েছে। এখানে অন্যায়ের সুযোগ হবে না।”

ইথানল সংকটের জেরে গত ২০ দিনে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ইথানল সংকটের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে আচমকা দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের সংসারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। চিনির পাশাপাশি চাল, ভোজ্য তেল, রসুন ও পেঁয়াজের দাম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলির দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই বাজারদর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

তবে মূল‍্যবৃদ্ধি রুখতে রাজ্য জুড়ে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযান চালালেও দাম কতটা কমবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


Share