Leaps And Bounds

ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচায় যুক্ত ছিল অভিষেকের ‘লিপস অ‍্যান্ড বাউন্স’, সাত লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল সেবি, কীভাবে হয়েছিল?

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা ইডির নজরে তা এসেছে। তাঁদের দাবি, আসলে কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার কেনাবেচা চলেছে ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে। এর আড়ালে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১১:২৯

বেআইনি ভাবে শেয়ার কেনাবেচায় যুক্ত ছিল লিপস অ‍্যান্ড বাউন্স। যে কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সিকিউরিটি অ‍্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া তদন্ত করে। তদন্তের পরে সাত লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। এমন গড়মিলের অভিযোগে মিমাংসা করতে চেয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এই সংস্থা। যদিও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিপস অ‍্যান্ড বাউন্সের শেয়ার কেনাবেচা সংক্রান্ত গড়মিল সেবির নজরে পড়ে। তারা তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। সেবির তদন্তে উঠে আসে, এই সময়কালের মধ্যে রামেশ্বর দয়াল এইচইউএফ নামে একটি কোম্পানির কাছ থেকে ৪৮টি সংস্থার শেয়ার কেনা হয়েছিল। রামেশ্বর দয়াল এইচইউএফ সেবির রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রোমোটার ছিল। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই রামেশ্বর দয়াল এইচইউএফের কাছ ‘ডিএলএফ’-এর এক লক্ষ ২০ হাজার ইউনিট শেয়ার কেনে। প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়ে ২.৬ টাকা। এই এক লক্ষ ২০ হাজার ইউনিটই ৩.২৫ সেকেন্ডেই তা ১০.৯ টাকা প্রতি ইউনিটের দরে রামেশ্বর দয়াল এইচইউএফকে বিক্রি করে দিয়েছে। মোট দু’লক্ষ ৪০ হাজার ইউনিটের টাকা লেনদেন হয়েছিল।

২০১৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট দু’লক্ষ ৯১ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। মোট ৪৮টি সংস্থার শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে। অভিযোগ, লিপস অ‍্যান্ড বাউন্স কম টাকায় কিনেছে বেশি টাকায় বেচে দিয়েছে। আবার বেশি টাকায় কিনেছে কম টাকায় বেচে দিয়েছে। এই শেয়ারগুলির মধ্যে ১২৮টি বিপরীত লেনদেন হয়েছে।

সেবির দাবি, যে সমস্ত সংস্থার শেয়ার কেনা হয়েছিল, ওই সময়ের মধ্যে বাজ‍ারমূল‍্যের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই লেনদেনের তথ‍্য খতিয়ে দেখার জন‍্য বিচারক নিয়োগ করে। তাঁরাই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তাঁরা মনে করেন, এ ভাবে শেয়ার কেনাবেচা সেবির আইনের পরিপন্থী। এতে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। গত ২০২১ সালে এই লিপস অ‍্যান্ড বাউন্সকে নোটিশ করে সেবি জানতে চায়, কেন তাদের জরিমানা করা হবে না। লিপস অ‍্যান্ড বাউন্স যে উত্তর দেয় তাতে সন্তুষ্ট হয়নি বিচারক। পরে তাঁদের সাত লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ২০১৬ সালে অপশন শেয়ার কেনাবেচায় বিপরীত কেনাবেচা বন্ধ করে দেয় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ। তার জন‍্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি আনা হয়। কিন্তু সেবি এ ক্ষেত্রে জানায়, এই সময়কালের মধ্যে ১২৮টি লেনদেনের মধ্যে ১০১টি লেনদেন অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে সম্পন্ন হয়েছে। এই সমস্ত শেয়ারগুলির ‘স্ট্রাইক’ মূল্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি। দু’লক্ষ ৯১ হাজার ৬৪৩টি ইউনিটের ১২৮ বার বিপরীত লেনদেনে জন‍্য ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ১০ হাজার ৬৬৮টি কৃত্রিম ‘ট্রেড ভলিউম’ তৈরি হয়েছে। যা সেবির আইনকে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা ইডির নজরে তা এসেছে। তাঁদের দাবি, আসলে কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার কেনাবেচা চলেছে ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে। এর আড়ালে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। এক সময় এই সংস্থা ডিরেক্টর ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণে তাঁকে শেয়ার সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকেও পাঠানো হয়।


Share