Amit Shah

রাজ‍্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খতিয়ে দেখবেন আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি, তোরজোর শুরু করল পুলিশ

রবিবার দুপুরে সেই বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। সৌজন্য‍ গেস্ট হাউসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৩

আগামীকাল, শুক্রবার রাতে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ‍্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। সূত্রের খবর, রাজ‍্যের শীর্ষ পুলিশকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। সেই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন।

রবিবার দুপুরে সেই বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। সৌজন্য‍ গেস্ট হাউসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। লালবাজার সূত্রের, বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা পুলিশের কর্তারা একপ্রকার বৈঠক সেরে নিয়েছেন। কলকাতা শহরে বিগত দিনে কী কী ধরণের অপরাধ হয়েছে, তার বিচার প্রক্রিয়ায় অবস্থা রয়েছে তা নিয়ে পুলিশ কমিশনার বিস্তারিত তথ্য দেবেন।

শহর-সহ রাজ‍্যে সাইবার অপরাধ দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবারের সংঘটিত অপরাধ চক্র নিয়ে মামলা হলেও অনেক অভিযুক্তেরা এখনও অধরা। সেই সমস্ত মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি কতদূর তা নিয়েও কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্ট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে লালবাজার এবং ভবানী ভবনে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।

সম্প্রতি পালাবদলের পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কাঁটাতারের বেরা বসানোর জন্য এক হাজার একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করে রাজ‍্য সরকার হস্তান্তর করে দিয়েছে। সেখানে দ্রুতই কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হবে। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া জন‍্য বাকি জমি দ্রুত হস্তান্তর করার জন্য রাজ‍্য সরকারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সংখ‍্যলঘু বাদে বাকি যারা অবৈধ ভাবে ভারতে এসে থাকছেন তাঁদেরকে চিহ্নিত করার জন‍্য পুলিশকে কড়া বার্তা দিতে পারেন।

এ ছাড়াও, রাজ‍্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের লোকবল, প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। কোথায় কী খামতি রয়েছে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোঁজখবর নিতে পারেন। কলকাতা এবং রাজ‍্য পুলিশের তরফে তা নিয়েও বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নে ডবল ইঞ্জিন সরকারের টাকা বরাদ্দে যে খামতি রাখা হবে না তা নিয়ে আগেই পুলিশমন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তা নিয়েও ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিতে পারেন।

তৃণমূল জমানায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এনসিআরবিকে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তাতে বাধাহীন দেশজুড়ে বাধাহীন ভাবে কাজ করতে অসুবিধা হত। সরকার বদলের পরে তা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিএনএস পোর্টালে মূলত পাঁচটি ফর্ম থাকে। কোনও এফআইআর কপি আপলোড করার আগে পুলিশই সেই ফর্ম পূরণ করে। ফর্ম-১: এফআইআর কপির জন‍্য, ফর্ম-২: অপরাধস্থল সংক্রান্ত তথ্যের জন্য, ফর্ম-৩: ওই মামলায় কত জন গ্রেফতার হয়েছে, ফর্ম-৪: মামলার তদন্ত চলাকালীন কী কী বস্তু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ফর্ম-৫: মামমলার চার্জশিটের জন‍্য। কী ভাবে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানার আধিকারিকেরা তথ‍্য সিসিটিএনএস-এ আপলোড করবেন তা নিয়ে নির্দেশিকাও ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কাজ কতদূর এগিয়েছে তা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পুলিশকর্তারা জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজ‍্যে গুন্ডা দমন আইন কার্যকর হয়েছে। তা যাতে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয় তা নিয়েও বার্তা দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ‍্যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তৃণমূল জমানায় ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা যে কোনও মূল্যে ফিরিয়ে আনতে যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কর্তাদের বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে।


Share