ED Raid

অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি তৈরির হাব পশ্চিমবঙ্গ! মাদ্রাসা ও সেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালে সন্ত্রাসবাদে বিদেশি টাকা লগ্নি, কলকাতা-সহ চার জেলায় ইডির অভিযান

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা, হাড়োয়া, হাসনাবাদ, মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে চার জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের দার-উল উলুম মাদ্রাসায় তাঁরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর ছেলে ওই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪৫

বাংলাদেশের মুসলমানদের অনুপ্রবেশ সিন্ডিকেটের এবং জাল নথি তৈরির করে কোটি কোটি টাকার বেআইনি অর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সকাল থেকে তল্লাশিতে নেমে পড়েছে ইডি। উত্তরপ্রদেশের একটি মামলার ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই মামলাতে পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের মোট ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চলেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা, হাড়োয়া, হাসনাবাদ, মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে চার জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের দার-উল উলুম মাদ্রাসায় তাঁরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর ছেলে ওই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইডি সেখানে পৌঁছোতেই দু’জনই পলাতক বলে দাবি করা হয়েছে।

অপর দিকে, হাড়োয়াতেও তল্লাশি চলছে। সেখানকার তিন জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে।জানা গিয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তদন্তে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যবসায়ীর বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ইডি সূত্রের খবর, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের অবৈধ ভাবে প্রবেশ করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক হিসেবে এদের হরিয়ানা, দিল্লি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তার জন‍্য আধার কার্ড, প‍্যান কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ই-শ্রম কার্ড তৈরি করা হয়েছে। বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা আর্থিক লেনদেন হয়েছে। মাদ্রাসার আড়ালে এই সিন্ডিকেট চক্র কাজ করেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছে। দু’বছর আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এটিএস একটি এফআইআর দায়ের করে। সেই এফআইআরের সূত্র ধরেই ইডি ইসিআইআর (ECIR/LKZO/24/2024) দায়ের করে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে।

সেই মামলার তদন্তে নেমে কয়েকটি এই রাজ‍্যের কয়েকটি মাদ্রাসা এবং কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংস্থাকে তাঁরা চিহ্নিত করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুস সামাদ নামে যে ব‍্যবসায়ীর সেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে গিয়েছে, সেই সংস্থায় বিদেশি টাকা জমা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই টাকা বিভিন্ন অবৈধ কারবারের কাজে লেগেছে। সেই টাকার লেনদেন লুকিয়ে রাখতে একাধিক ছোট অ‍্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। সেই অ‍্যাকাউন্টগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলেই মনে করছে তদন্তকারীরা।

ইডি সূত্রের আরও জানা গিয়েছে, সেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং মাদ্রাসার আড়ালে মানবপাচার চক্রের শিকড় এই রাজ‍্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তা করে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সেই টাকার হদিশ পেতে তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। সিপিএম এবং তৃণমূল জমানায় এই চক্র আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবশালী যোগ রয়েছে বলেই মনে করছে তাঁরা।


Share