Elephant Attack

ফসল দেখতে গিয়ে হাতির আক্রমণ, পায়ের নিচে পিষে ঝাড়গ্রামে মৃত্যু এক মহিলার

ঘন কুয়াশার মধ্যে আচমকাই একটি দলছুট হাতির সামনে পড়ে গেলে হাতিটি তাঁকে আছাড় মেরে পায়ে মাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০

 

ঝাড়গ্রামে হাতির হানায় মৃত্যু হল এক মহিলার। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুয়াশার কারণে সামনে থাকা হাতিটিকে দেখতে পাননি। ফলে ওই মহিলা আচমকাই বিপদের মুখে পড়েন।

শনিবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলার খড়্গপুর বন বিভাগের অন্তর্গত কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের সাঁকরাইল বিটের কুলঘাগরি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মৃতার নাম মিথিলা মাহাতো। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। দাদা ও ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে কুলঘাগরি গ্রামেই থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এলাকায় প্রায়ই হাতির তাণ্ডবে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণে মিথিলা মাহাতো শনিবার ভোরে জমির অবস্থা দেখতে গিয়েছিলেন। মৃতার ভাইপো গৌতম মাহাতোর কথায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে আচমকাই তিনি একটি হাতির সামনে পড়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁর পা আটকে যায়। সেই সময় হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। তারপর পায়ে করে মাড়িয়ে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়্গপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের বারডাঙা ও সাঁকরাইল বিট এলাকায় প্রায় সারা বছরই হাতির আনাগোনা থাকে। ওডিশা থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে এবং মেদিনীপুর বনবিভাগের দিক থেকে কংসাবতী নদী পার হয়ে হাতির দল ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। মানিকপাড়া হয়ে সাঁকরাইল ও ঝাড়গ্রাম ব্লকের শঙ্করবনি, দুধিয়ানালা, গোলবান্ধী, বারডাঙা, আঙারনালি, হাঁড়িভাঙা ও চুলপাড়া–সহ একাধিক এলাকায় তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বন দপ্তরের দাবি, বৃহস্পতিবার ওডিশার দিক থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে প্রায় ৪৭টি হাতির একটি বড় দল সাঁকরাইল বিট এলাকায় ঢুকেছে। বর্তমানে সেই দলটি হাঁড়িভাঙা জঙ্গলে অবস্থান করছে। তবে স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক দিন ধরে একটি দলছুট দাঁতাল হাতি কুলঘাগরি ও হাঁড়িভাঙা এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। সেটিই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মানুষ দেখলেই হাতিটি তেড়ে আসছে। তাই হাতিটিকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে বারডাঙা বিটের দুধিয়ানালা এলাকায় চার থেকে পাঁচটি হাতি ঢুকে পড়ায় আলু, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। খড়্গপুর বন বিভাগের ডিএফও মণীশ যাদব জানান, শনিবার সকালে ঘন কুয়াশার কারণে এলাকায় দৃশ্যমানতা কম ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দলছুট হাতির হানায় ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম হাতি ও মানুষের সংঘাত এড়াতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।


Share