TMC Political Crisis

‘ও একটা বোঝা’, তৃণমূলের বিদ্রোহী তালিকায় সুদীপের নাম জড়াতেই তৃণমূল সাংসদকে কটাক্ষ বিজেপির তাপস রায়ের

তিনি বলেন, "এগুলো প্রাপ্য ছিল। এই ধরনের লোকগুলোকে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মাথায় তুলেছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে তো বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি।”

Minister Tapas Roy remarked on TMC MP Sudip Banerjee
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১১:০০

আবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বোঝা’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ‍্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে। শনিবার রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় কটাক্ষ করে বলেছেন, তিনি আসলে একটা ‘বাজে’ লোক। তিনি কোনও দিন রাজনীতি করেননি। পাশাপাশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুনাল ঘোষও কটাক্ষ করেছেন।

শনিবার সকালে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে করে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শতাব্দী রায় এই মুহূর্তে সাংসদে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে রয়েছেন। ১৯ সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে একজোট হতেন। ২০ নম্বরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থাকবেন কি না তা নিয়ে এ দিনের বৈঠকের পরে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তাপস রায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূলে থাকাকালীনও তাপস-সুদীপের দ্বন্দ্ব হয়েছে। ঘটনাচক্রে দু’জনই একে অপরের প্রতিবেশী। তাপস রায় তৃণমূল ছাড়ার অন‍্যতম মূল কারণ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করে। সুদীপ তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা নিয়ে তাপস রায় বলেন, "বেসিক্যালি ও (সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়) একটা বাজে লোক। সারাজীবনে রাজনীতির 'র' করেননি। ওঁর কোনও সংগঠন ছিল না। কোনও কিছু ছিল না।”

পুরোনো কথা টেনে এনে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন, “প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির ধুতির খুঁট ধরত। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁচল ধরে। এত দূর পর্যন্ত ওঁর দৌড় ছিল। ওই মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলে এখানে পৌঁছেছেন। উনি কোনও দিনই কারোর লয়্যাল (ঘনিষ্ঠ) নন। উনি আর ওঁর স্ত্রী দু'জনেই দু'জনের লয়্যাল। হয়তো।" সুদীপের রাজনৈতিক অবস্থানকে নস্যাৎ করে তাপস রায় এ-ও বলেন, “ওঁর কোনও গুরুত্বই নেই। ওকে কোনও দিন আমি গুরুত্ব দিই না।”

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরাবরই নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে এসেছেন তাপস রায়। দলবদলের পরেও সেই ঝাঁঝ বিন্দুমাত্র কমেনি। এর পরেই সুদীপের শিবির বদলের জল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ও যেখানেই থাকুক, যেদিকেই থাকুক, ও একটা বোঝা, লায়াবিলিটি। সুতরাং এটা যার বোঝার সে বুঝুক।”

এখানেই থামেননি তাপস রায়। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝা বইতে ভালবাসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বেশিরভাগই বোঝা। বোঝা বইতে গিয়েই দলটা উঠে গেল।" তিনি আরও বলেন, “এই ধরণের রাজনৈতিক বোঝা বইতে গিয়েই পশ্চিমবঙ্গকে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। রাজ্যের মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। এই বোঝা টানার খামখেয়ালিপনার জেরেই সরকারটা আজ এই হাল করে বসল। দলটা যে আজ কার্যত উঠে যাওয়ার মুখে এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে এই চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এই ‘বোঝা’ বওয়ার অভ্যাস।”

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শামিল হওয়া জল্পনা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, "এগুলো প্রাপ্য ছিল। এই ধরনের লোকগুলোকে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মাথায় তুলেছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে তো বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি।”

কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে কুনাল ঘোষ আরও বলেন, “একটা পরচুলোওয়ালা ওরকম একটা অদ্ভুত টাইপের লোক পাওয়া গেল তা-ই নয়, তারসঙ্গে একটা ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে। ফলে, বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্য, পাওনা। এ ধরনের জিনিসপত্রকে উনি মাথায় তুলে রেখেছিলেন।”

কুনালের সংযোজন, “এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপে করে করে কেঁদে-কেঁদে বলেছেন, মমতা আমাকে উত্তর কলকাতার সভাপতি আবার করে দাও। সজল ঘোষের বাড়িতে পুলিশ দিয়ে দরজা ভাঙানো হয়েছে। একমাত্র কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে ট্যুইট করে প্রতিবাদ করেছিল। দলের লাথি-ঝেঁটা খেয়েছি সেদিন।” সুদীপের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে যে তিনি সাসপেন্ড হয়েছিলেন তা-ও বলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ।


Share