Fire Incident

ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে আগুন, ফলের বাগান বাঁচাতে গিয়ে ঝলসে মৃত্যু বৃদ্ধার

নিজের ফলের বাগান বাঁচাতে গিয়ে আগুনের মধ্যে বৃদ্ধা আটকে পড়েন। দমকলের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় বিপদের হাত থেকে গ্রামটি রক্ষা পায়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৪:৪৭

ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে লাগল আগুন। ঘটনায় মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম ব্লকের আগুইবনী পঞ্চায়েতের ছোট ডিডিহা গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের হাত থেকে বৃদ্ধা নিজের ফলের বাগান বাঁচাতে যান। আর তাতেই তাঁর ঝলসে মৃত্যু হয়। মৃতার নাম কল্পনা মাহাত(৬৮)। দমকলের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত গ্রামটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামটির নাম ডিডিহা। ছোট গ্রামটি জঙ্গল ঘেরা। সেখানে প্রায় ২০–২২টি পরিবারের বসবাস। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। ধীরে ধীরে আগুন গ্রামের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করে। তাতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা হাঁড়ি, কলসি ও বালতি নিয়ে জল এনে শুকনো ঘাস ভিজিয়ে আগুনের বিস্তার আটকাতে চেষ্টা করেন। পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া জমিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরাতেও অনেকে উদ্যোগী হন।

এই সময় কল্পনা মাহাত তাঁর ছোট বউমাকে নিয়ে নিজেদের জমিতে থাকা জঙ্গল সংলগ্ন বাঁশঝাড় ও ফলের বাগান রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ, আচমকা জঙ্গল থেকে ঘূর্ণি হাওয়া বেরিয়ে আসায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যরা সরে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু ওই বৃদ্ধা আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন ও ঝলসে যান। পরে তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতার বড় ছেলে গণেশ মাহাত জানান, জঙ্গল থেকে তাঁদের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার। আগুন এগিয়ে আসতে দেখে গ্রামবাসীরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই তাঁর মা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা আদিত্য মাহাতও জানান, আগুন গ্রামের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসছিল। হঠাৎ দমকা হাওয়ার জেরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আগুইবনী পঞ্চায়েতের প্রধান দীনেশ মাহাত জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকলকে খবর দেওয়া হয়েছিল। গ্রামবাসীরাও প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দ্রুত দমকল পৌঁছে যাওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি এও জানান, মৃত বৃদ্ধার পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

ঝাড়গ্রাম দমকল বিভাগের ওসি কুন্তল সামুই জানান, খবর পেয়েই দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পাশের জঙ্গলেও তখন আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আগুন গ্রামেও ঢুকে পড়তে পারত। বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, এলাকাটি লোধাশুলি রেঞ্জের অন্তর্গত। জঙ্গলে আগুন না লাগানোর জন্য বনদফতরের তরফে বারবার প্রচার চালানো হলেও কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।


Share