Job Scam

১২৫টির বেশি বেআইনি চাকরি, বিনিময়ে নিয়েছেন সোনাদানাও, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সকাল থেকে চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান

শনিবার সকালে ভবানীপুরের বাড়ি এবং দফতরের ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। এ ছাড়া, কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, বেলাঘাটা, জোকা এবং বেহালাতেও ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

মদন মিত্রের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১১:৫৬

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়ি এবং দফতরে ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে এই মামলার তদন্তে সাতটি জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র একাধিক পুরসভার বেআইনি ভাবে অযোগ্যদের চাকরির ব‍্যবস্থা করে দিয়েছেন। তার বিনিময়ে মদন ঘুষ নিয়েছেন। তারই সূত্র ধরে এই তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। 

পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে মদন মিত্রের ভূমিকা কী রয়েছে তা জানার জন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ইডির সূত্র দাবি করেছে। কামারহাটি-সহ একাধিক পুরসভার মদন মিত্র বেআইনি ভাবে অযোগ‍্য প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অভিযোগ, চাকরির বিনিময়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ। এমনকী, সোনাদানাও ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। তবে মদন নিজের হাতে টাকা বা সোনা ঘুষ হিসেবে নেননি বলেই মনে করছে ইডি। এই টাকা এবং সোনাদানা মিডলম‍্যানদের মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছে যেত। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি জানতে পেরেছে, পুরসভাগুলিতে ১২৫টির বেশি বেআইনি ভাবে চাকরিতে মদনের যোগ রয়েছে।

শনিবার সকালে ভবানীপুরের বাড়ি এবং দফতরের ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। এ ছাড়া, কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, বেলাঘাটা, জোকা এবং বেহালাতেও ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। ২০১১ সালে মদন মিত্র বিধায়ক হন। এর পরে ২০২১ এবং ২০২৬ সালেও কামারহাটি থেকে জিতেছেন। কামারহাটিতে এলাকায় তিনি যথেষ্ট প্রভাবশালী। সেই প্রভাব বেআইনি নিয়োগে খাটিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁর সূত্র ধরেই পুরসভায় দুর্নীতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, পুরসভায় দেদার চাকরি বিক্রি হয়েছে ঘুষের বিনিময়ে। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা কোনও চাকরি পাননি। অয়নের সল্টলেকের দফতর থেকে এই সংক্রান্ত উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করেছিল সিবিআই। সেই মামলার তদন্ত করছে ইডিও।


Share