TMC Political Crisis

সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের, ব্যক্তিগত কারণ নাকি রাজনৈতিক? উঠছে প্রশ্ন

তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পুরবোর্ড যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি কাউন্সিলর হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন।

সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনামুখী
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:৫৬

বাঁকুড়ার সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায় থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুরআইন মেনে সেই পদত্যাগপত্রের প্রতিলিপি বোর্ড অফ কাউন্সিলের কাছেও পাঠিয়েছেন। তবে আপাতত কাউন্সিলর পদে তিনি বহাল থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক পঞ্চায়েত প্রধান ও পুরপ্রধানের পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই তালিকাতেই এ বার যুক্ত হল সোনামুখী পুরসভা। যদিও ইস্তফাপত্রে ব্যক্তিগত কারণ এবং তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেতা সন্তোষ মুখোপাধ্যায়। তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের জেরেই এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।

পদত্যাগের পর সন্তোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তিনি তাকে সম্মান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের পাশে সময় দেওয়া এবং নিজের পেশাগত জীবনে ফেরার ইচ্ছার কথাও তিনি জানান।

তবে চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তিনি আপাতত দায়িত্ব পালন করবেন বলে স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পুরবোর্ড যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি কাউন্সিলর হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন।

এ দিকে এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির সোনামুখী নগর মণ্ডলের সভাপতি গিরিশঙ্কর অধিকারীর দাবি, সোনামুখীর উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা পুরপ্রধানকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিধায়কও একই বার্তা দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। তা সত্ত্বেও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, পুরসভা পরিচালনায় তিনি সফল হননি বলে মন্তব্য বিজেপি নেতৃত্বের।

গিরিশঙ্কর অধিকারী আরও জানান, প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করে পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে শহরের পরিষেবা ও উন্নয়ন ব্যাহত না হয়।


Share