Elephant Attack

ঝাড়গ্রামে ফের হাতির হানায় মৃত্যু, দুই মাসে মৃতের সংখ্যা সাত

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ বেরার দাবি, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বন দফতরকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৭:১৯

ঝাড়গ্রামে ফের হাতির আক্রমণ। প্রাণ গেল এক বৃদ্ধের। শুক্রবার সকালে নয়াগ্রাম থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম কাঙালি নায়েক (৬৫)। তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোরে একটি হাতি সাঁকরাইলের দিক থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে রামচন্দ্রপুর এলাকায় ঢুকে পড়ে। সকালে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে প্রাতঃক্রিয়া সারতে গিয়েছিলেন কাঙালি নায়েক। সেই সময় আচমকাই তিনি হাতিটির সামনে পড়ে যান। অভিযোগ, হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে তাঁকে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে হাতির হানায় ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত রবিবার ঝাড়গ্রাম থানার শিমুলডাঙা এলাকায় কাজুবাগানে কাজু বীজ সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির আক্রমণে মৌসুমী মল্লিক (৩২) নামে এক মহিলা প্রাণ হারান।

মৌসুমী মল্লিকের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জ অফিসে তাঁর স্বামীর হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো এবং ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামও।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর-সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে প্রায়শই হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ফসলের ক্ষতি তো হয়ই। পাশাপাশি মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গত বছর রামচন্দ্রপুরের পাশের বাছুরখোয়াড় গ্রামে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে হাতির আক্রমণে শান্তি বেরা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ বেরার কথায়, গ্রামবাসীদের হাতির আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বন দফতরকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এ দিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।


Share