Land Scam

জমি প্রতারণা মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতা সুজয়ের সঙ্গে কোটি টাকা লেনদেন, সুমিত রায়ের খোঁজে দেড় ঘণ্টা ধরে চলল তল্লাশি

জানা গিয়েছে, শালবনি থানার পুলিশ শুক্রবার ভোররাত ৩টে নাগাদ কালীঘাটের বাড়িতে শালবনি থানার পুলিশ বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আসে। শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত পুলিশের আধিকারিকেরা ডাকাডাকি করেন।

সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০১:৪৮

জমি প্রতারণা মামলায় নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে জমি প্রতারণা মামলায় শালবনি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, জমি প্রতারণা মামলায় সুমিত রায়ের সঙ্গে কোটি টাকার লেনদেন সুজয় হাজরার সঙ্গে হয়েছিল।  সেই মামলার তদন্তেই শুক্রবার ভোররাতে কালীঘাটের বাড়িতে শালবনি থানার পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়। সুমিতের ফোনের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখেই কালীঘাটের বাড়িতে যায় তাঁরা।

জানা গিয়েছে, শালবনি থানার পুলিশ শুক্রবার ভোররাত ৩টে নাগাদ কালীঘাটের বাড়িতে শালবনি থানার পুলিশ বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আসে। শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত পুলিশের আধিকারিকেরা ডাকাডাকি করেন। অভিযোগ, সুমিতের কথা অভিষেকের দফতরের কর্মীদের জিজ্ঞেস করা হলে কেউ বলেনি। তদন্তকারীদের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছেন। এর পরেই গ‍্যাসকাটার দিয়ে মূল গেটের তালা ভেঙে তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তল্লাশি চালানো পরে তাঁরা বেরিয়ে যান। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের হাতে কিছু মেলেনি। এক সপ্তাহ আগে শালবনির একটি সরকারি জমি প্রতারণা মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে থানায় ডেকে পাঠানো হত। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলার তদন্তে সুজয় হাজরাকে জেরা করে সুজয় হাজরার নাম উঠে আসে। এমনকী, সুজয় হাজরার সঙ্গে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপ্তসহায়ক সুমিত রায়— এমনটাই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

পুলিশ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের খোঁজে সুমিত রাতের মোবাইল ফোনের টাওয়ারের অবস্থান শেষ কালীঘাটের বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল। তা দেখেই পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু বর্তমানে সুমিতের ফোন বন্ধ রয়েছে। আর তাঁকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

যে কোনও তল্লাশি অভিযানের পর পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী একটি বাজেয়াপ্তের তালিকা প্রস্তুত করে। এ ক্ষেত্রে সেই তালিকায় বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর জায়গায় ‘নিল’ লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তৃণমূলের রাজ্যসভার উপদলনেতা সাগরিকা পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘‘কোনও প্রমাণ নেই, কোনও ভুল কাজ হয়নি। কিছুই হয়নি! এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভয় দেখানোর চেষ্টা এবং মানসিক নির্যাতন। ‘অপারেশন লোটাস’-এর নিশানা হচ্ছেন সেই সমস্ত নেতা, যাঁরা বিজেপির নির্দেশের সামনে মাথা নত করছেন না। বিরোধী শিবিরের এক নেতার উপর এটা লজ্জাজনক আক্রমণ। এই প্রতিহিংসাপরায়ণতা, ষড়যন্ত্রমূলক আচরণের ঘৃণ্য কৌশলকে ধিক্কার।’’

পুলিশি তল্লাশির খবর পেয়ে সকালে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশি শেষ হলে তিনি ফিরে যান। অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে জানান, তালা ভেঙে ঢুকে তাঁর পুরো বাড়ি ‘সার্চ’ করা হয়েছে। বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে। আপ্তসহায়ক সংক্রান্ত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। জানান, তিনি কাউকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখেননি। তাই তদন্তকারী সংস্থাও কিছু পায়নি।


Share