Decomposed Food

রেশনে মেয়াদ উত্তীর্ণ আটা বিতরণের অভিযোগ রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভে সামিল গ্রামবাসীরা

পরিস্থিতির চাপে পড়ে ডিলার শঙ্কর মুখোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে বিতরণ করা আটা ফেরত নিতে বাধ্য হন।

বহু গ্রামবাসী রেশন দোকানের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৩:২৯

মেয়াদ উত্তীর্ণ আটা দেওয়ার অভিযোগ রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে। বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া-১ ব্লকের কেঞ্জাকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলবনা গ্রামে এমন ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের রেশন দেওয়া হয়। সেই রেশনের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ আটা বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রেশন ডিলার শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে বহু গ্রামবাসী রেশন দোকানের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার। শেষ পর্যন্ত তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে বিতরণ করা আটা ফেরত নিতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাহকদের মধ্যে ৯৫০ গ্রাম ওজনের আটার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছিল। পরে প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য দেখে গ্রাহকদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, আটার ব্যবহারযোগ্যতার শেষ তারিখ ছিল চলতি বছরের ১৬ মে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই তা রেশন গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেশন ব্যবস্থায় সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কুলবনা গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তাঁদের একাংশের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী গম দেওয়ার পরিবর্তে আটা বিতরণ করা হয়েছিল। গ্রামবাসী জিতেন টুডু, বাবুলাল মুর্মু ও শুকুরমনি মাণ্ডি জানান, তাঁরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে অন্য দের কাছ থেকে জানতে পেরে মেয়াদোত্তীর্ণ আটা রেশন ডিলারের কাছে ফেরত দিয়ে আসেন।

অভিযোগের জবাবে রেশন ডিলার শঙ্কর মুখোপাধ্যায় জানান, আটার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি তিনি আগেই সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়েছিলেন। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী ওই আটা ফেরত নেওয়া হয়। পরে সরকারি নির্দেশ মেনে ৬০ শতাংশ গম এবং ৪০ শতাংশ আটা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় রেশন সামগ্রীর গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কি না, সেদিকেই এখন স্থানীয়রা নজর রেখেছেন।


Share