PM Care

চার বছর চাপা ছিল ক্যাগ রিপোর্ট! বিধানসভায় ২৮টি রিপোর্ট পেশ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে সরকারি জমি লিজ, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

সরকারের বক্তব্য, সেই সব অনিয়ম এবং আর্থিক গরমিলই বিধানসভার সামনে তুলে ধরতেই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেশের সময় স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘আপনারা এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন, কেন রাজ্যের আট লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি।’’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৯

পিএম কেয়ার্স তহবিলের অর্থে কেনা অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও ভেন্টিলেটর পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হলেও, পশ্চিমবঙ্গে তার একটি বড় অংশ ব্যবহারই করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে ক্যাগের রিপোর্টে। শনিবার বিধানসভায় ওই রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সূত্রের দাবি, রিপোর্টে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে একাধিক আর্থিক অসঙ্গতি ও অডিট পর্যবেক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সেই সব অনিয়ম এবং আর্থিক গরমিলই বিধানসভার সামনে তুলে ধরতেই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেশের সময় স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘আপনারা এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন, কেন রাজ্যের আট লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি।’’

সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গকে যে আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছিল, তার ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশ ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত খরচই করা হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পিএম কেয়ার্স তহবিল এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) প্রকল্পের অর্থে রাজ্যে ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ৩২টি চালু ছিল।

অন্য দিকে, ক্যাগের রিপোর্টে উঠে এসেছে, একটি ই-কমার্স সংস্থার কাছে সরকারি জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজে দেওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার শিল্পোন্নয়ন নিগমকে এক হাজার ৩২৬.৯৩ একর জমি বরাদ্দ করেছিল, যেখানে একটি শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নিরীক্ষায় দেখা যায়, ই-কমার্স সংস্থাকে যে জমি লিজ়ে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে জলাজমিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সিদ্ধান্তের জেরেই নিগমের উল্লেখযোগ্য আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বতন তৃণমূল সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত টানা চারটি অর্থবর্ষে কোনও ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। শনিবার বিশেষ অধিবেশনের আগে অর্থমন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে এবং সেগুলি নিয়েই আলোচনা হবে। এই রিপোর্টগুলির মধ্যে রাজ্য সরকারের আর্থিক নিরীক্ষা ছাড়াও পঞ্চায়েতিরাজ, স্বাস্থ্য দফতর, ভূমি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের ব্যয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিরীক্ষা রিপোর্টও রয়েছে।


Share