Huge Arms Seized

গভীর রাতে এসটিএফের জোড়া অভিযান, বীরভূমে উদ্ধার ১,১৫০ জিলেটিন স্টিক, পান্ডবেশ্বর থেকে বাজেয়াপ্ত ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ধৃত দু’জন

পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর ও বীরভূমের মুরারইয়ে জোড়া অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ঘটনায় মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের এসপি সিদ্ধার্থ ধোপালা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পান্ডবেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৩৩

বুধবার গভীর রাতে জোড়া অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করল রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ। পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বর থেকে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই দিনই বীরভূমের মুরারই থেকে ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক বাজেয়াপ্ত করেছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। গোটা ঘটনা নিয়ে তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এসটিএফের এসপি সিদ্ধার্থ ধোপালা। তিনি এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আনেন। জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুরারই থানার এলাকার বড়োয়া-গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালায় রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ। সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

এসটিএফের পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ধোপালা জানিয়েছেন, ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জিলেটিন স্টিককে ট্রিগার করার জন‍্য ব্যবহৃত হওয়া ৯৮৯টি ডিটোনেটরও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিলেটিন স্টিক এবং ডিটোনেটরের মধ্যে সংযোগকারী ১২,০০০ মিটার তার একইসঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজগ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং সিউড়ির তিলপাড়ার বাসিন্দা মুকেশ সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন‍্য দিকে, গত ৩ এবং ৫ নভেম্বর আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকায় রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ অভিযান চালায়। সেখান থেকে মোট ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসটিএফের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তার মধ্যে ছ’টি লম্বা মাস্কেট, চারটি ৭ মিমি পিস্তল এবং ১১টি পাইপগান রয়েছে। পাশাপাশি ৮মিমি-র ৪৭টি এবং ৭.৬৫মিমি-র ১৮ রাউন্ড কার্তুজও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এসটিএফ সূত্রের খবর, চলতি বছরে জামুড়িয়া থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার ভিত্তিতে এসটিএফ অভিযান চালায়। বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় শেখ শাহাজাহান নামে একটি ব‍্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে এই অস্ত্রগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শাহাজাহান একজন পরিচিত দুষ্কৃতী বলে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে। এমনকী, বেআইনি কয়লা পাচারের কারবারের সঙ্গেও শাহাজাহানের যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এর আগে খায়রুল আলম এবং মহম্মদ শমসের নামে দুই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। খায়রুলের কাছ থেকে ২টি এবং মহম্মদ শামসেরের কাছ থেকে ১৫টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই শাহজাহানের খোঁজ পাওয়া যায় বলে পুলিশের ওই সূত্রটি জানিয়েছে। 

ঘটনায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বিস্ফোরকগুলি বেআইনি পাথর খাদানের জন‍্য এনে মজুত করা হয়েছিল বলে পুলিশ মনে করছে। অপর দিকে পান্ডবেশ্বর থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কেন মজুত করা হয়েছিল তা কী কাজের জন‍্য আনা হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত করছে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফের সন্ত্রাস দমন শাখা।


Share