AQI Index

দীপাবলি-ছটের পর বিষের চাদরে ঢাকতে পারে দিল্লি! দূষণ সামলাতে এ বার কৃত্রিম বৃষ্টির পরিকল্পনা সরকারের, জারি একগুচ্ছ বিধিনিষেধ

ইতিমধ্যেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে ক্লাউড সিডিংয়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবিদদের একাংশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৫২

দীপাবলি ও ছটপুজোর পর দিল্লির বায়ুদূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ বার কৃত্রিম বৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি সরকার। ইতিমধ্যেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে ক্লাউড সিডিংয়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবিদদের একাংশ।

বর্তমানে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বাতাসের গুণমান সূচক ৩৬৭-তে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। উত্তর দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীর মতো একাধিক এলাকায় AQI ৪৫৯ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাতাসে বিপজ্জনক PM2.5 কণার উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ঘন ধোঁয়াশার জেরে দৃশ্যমানতা কমেছে। ইন্ডিয়া গেট-সহ একাধিক জাতীয় স্মারক ঢেকে গিয়েছে ধোঁয়াশার চাদরে। শ্বাসকষ্ট-সহ নানা সমস্যায় ভুগছেন দিল্লির বাসিন্দারা।

দূষণ মোকাবিলায় গত ১৫ দিনে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় দু'বার কৃত্রিম বৃষ্টির মহড়া চালিয়েছে দিল্লি সরকার। গত বছর যেখানে ১০ হাজার মিটার উচ্চতায় এই পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে প্রায় ৩০ হাজার মিটার উচ্চতায় মেঘের উপর ক্লাউড সিডিংয়ের প্রয়োগ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে সিলভার আয়োডাইড ও শুষ্ক বরফ ছড়িয়ে মেঘ থেকে বৃষ্টি নামানোর চেষ্টা করা হয়। বৃষ্টির মাধ্যমে বাতাসে ভাসমান দূষণকারী কণার পরিমাণ সাময়িকভাবে কমানো সম্ভব। যদিও পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, কৃত্রিম বৃষ্টি দূষণের স্থায়ী সমাধান নয়। বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে মাত্র।

এ দিকে দীপাবলিতে বাজি ফাটানো নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সার্টিফায়েড সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ৯ নভেম্বর থেকে রাজধানীতে ফের সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধ থাকবে। বাজির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই দূষণ নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধান কি না, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই বলেও পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্র্যাপ-২ বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট। এর আওতায় ধুলো তৈরি হতে পারে, এমন সমস্ত নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটর ব্যবহারের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। রাস্তায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ঝাড়াই এবং নিয়মিত জল ছেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং দিল্লির বাইরে থেকে আসা নন-BS VI গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে বাস ও মেট্রোর মতো গণপরিবহণের পরিষেবাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দীপাবলির আগে থেকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করছে দিল্লি সরকার। তবে উৎসবের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।


Share