Murder Case

স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ! বাড়িতেই যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, আটক স্বামী স্ত্রী

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের দাসপাড়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাসনাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৫

পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত পরিণতি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হলেন এক যুবক। মৃতের নাম গোপালঋষি দাস (৩৫)। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার দাসপাড়ায় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় কাশীনাথ দাস নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে পুলিশ। তাঁর স্ত্রীকেও থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীনাথের স্ত্রীর সঙ্গে গোপালের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। বুধবার কাশীনাথ বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে গোপাল সেখানে যান। রাতে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে গোপালকে দেখতে পেয়েই কাশীনাথ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপরই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোপালকে একাধিকবার কোপানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে কাশীনাথের বিরুদ্ধে।

আঘাতের জেরে গোপাল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহটিকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠান হয়। অন্যদিকে, কাশীনাথকেও আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তাঁর স্ত্রীকেও থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় দু’জনকেই আটক করা হয়েছে।

প্রতিবেশীদের বক্তব্যেও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের বিষয়টি উঠে এসেছে। কাশীনাথের এক প্রতিবেশী মহিলার দাবি, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে গোপালের সম্পর্ক ছিল। এই নিয়ে আগেও কাশীনাথ গোপালকে সতর্ক করেছিলেন। তবে বুধবার রাতে নিজের বাড়িতে তাঁকে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনার পর প্রতিবেশীরাই পুলিশকে খবর দেন। বাবু গাজি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ঘরের ভিতরেই গোপালকে প্রথমে কোপানো হয়েছিল বলে মনে হয়েছে। পরে তাঁর দেহ টেনে বার করে বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। ওই প্রতিবেশীর কথায়, ঘটনার পর স্বামী ও স্ত্রী দু’জনকেই ঘরের ভিতরে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। গোটা ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ এবং খুনের ঘটনায় আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।


Share