Food Safety Campaign

ফ্রিজে মানুষের খাবারের সঙ্গেই কুকুরের খাবার! দুর্গাপুরের হোটেলে হানা দিয়ে উদ্ধার পচা চিকেন-পনির

দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার একাধিক হোটেলে মিলল চরম অনিয়ম। উদ্ধার ফাঙ্গাস ধরা চিকেন-পনির, বাসি খাবার ও পুরনো মশলা। হোটেলগুলিকে জরিমানা করার পাশাপাশি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে আধিকারিকরা।

দুর্গাপুরের হোটেলে মিলল পচা খাবার
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৩২

রাজ্য জুড়ে চলছে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। এবার দুর্গাপুরের একাধিক হোটেলের রান্নাঘরে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বড়সড় অনিয়মের ছবি সামনে এল। কোথাও ফাঙ্গাস ধরা চিকেন ও পনির, কোথাও আবার দিনের পর দিন জমিয়ে রাখা বাসি ভাত, তরকারি ও পুরনো মশলা। এমনকী মানুষের খাবার রাখার ফ্রিজেই মিলেছে কুকুরের খাবার। মঙ্গলবার মুচিপাড়ার একাধিক হোটেলে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই সমস্ত খাবার উদ্ধার করেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।

খাদ্য সুরক্ষা দফতর, দুর্গাপুর নগর নিগম এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। হোটেলগুলির রান্নাঘর থেকে শুরু করে খাবার মজুত রাখার জায়গা, সর্বত্রই তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় সামনে আসে একাধিক গাফিলতি। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে পচা খাবার। কোথাও আবার খাবারের গায়ে নেই সংরক্ষণের তারিখ বা প্রয়োজনীয় কোনও লেবেল। উদ্ধার হওয়া খাবারের তালিকায় রয়েছে ফাঙ্গাস ধরা চিকেন, ছত্রাক জমা পনির, বাসি ভাত, তরকারি, চানা মশলা এবং বহুদিনের পুরনো মশলা।

শুধু খাবারের মান নিয়েই নয়, খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই ফ্রিজে মানুষের খাবারের পাশাপাশি রাখা হয়েছিল কুকুরের খাবারও। কোনও খাবার কবে তৈরি হয়েছে বা কতদিন ধরে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। বিশেষ করে এই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হলে শিশু-সহ সাধারণ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

অভিযানের পর হোটেলগুলির ম্যানেজারদের আধিকারিকরা সতর্ক করেন। খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের খাবার ও পোষ্যদের খাবার আলাদা জায়গায় রাখার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম না মানায় সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলিকে জরিমানাও করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের দুর্গাপুরের আধিকারিক শুভম ঘোষ জানান, অভিযানে একাধিক হোটেল থেকে বাসি, পচা ও পুরনো খাবার উদ্ধার হয়েছে। মানুষের খাবারের সঙ্গেই কুকুরের খাবার রাখা হয়েছিল। সেগুলি আলাদা করে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলগুলিকে জরিমানাও করা হয়েছে। আগামী দিনে একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


Share