Industrial Policy

রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ টানতে বড় মাস্টারস্ট্রোক! মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগে ইপিএফের ১০০% ভর্তুকি, ১০ বছর মিলবে সুবিধা

নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন নীতিতে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বেশি সংখ্যায় নিয়োগ করলে শিল্প সংস্থাগুলিকে মিলবে বাড়তি আর্থিক সুবিধা।

নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:০৪

রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। বৃহস্পতিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত নতুন শিল্পনীতি। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন নীতিতে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বেশি সংখ্যায় নিয়োগ করলে শিল্প সংস্থাগুলিকে মিলবে বাড়তি আর্থিক সুবিধা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ বাড়াতে একাধিক উৎসাহমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছে। নিয়োগকর্তাদের আর্থিক বোঝা কমাতে কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ জমার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও শিল্প সংস্থা বা কারখানা কর্মী নিয়োগ করলে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ইপিএফ জমা দিতে হয় নিয়োগকর্তাকে। নতুন শিল্পনীতিতে সেই খরচের বড় অংশই বহন করবে রাজ্য সরকার। মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই দুই শ্রেণির কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া ইপিএফের ১০০ শতাংশ অর্থই ভর্তুকি হিসেবে ফেরত দেবে সরকার। অন্যদিকে, পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ইপিএফের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। দুই ক্ষেত্রেই একটানা ১০ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা মিলতে পারে।

তবে কর্মীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া পিএফের অংশে কোনও সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না। এই সুবিধা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা বা বিনিয়োগকারীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। এমএসএমই সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে একটি অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ইপিএফ ভর্তুকি দাবি করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

শুধু ছোট ও মাঝারি শিল্প নয়, বড় শিল্প সংস্থাগুলিকেও এই সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া ইপিএফের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। এই সুবিধা পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। পাশাপাশি বড় শিল্পের ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকছে না।

প্রশাসনিক মহলের মতে, কর্মীদের বেতনের পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা দিতে গিয়ে নিয়োগকর্তাদের যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়, নতুন নীতির ফলে তা অনেকটাই কমবে। এতে বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রে নিয়োগের প্রবণতা বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই ভর্তুকি পাওয়ার যাবতীয় শর্ত ও নিয়মাবলি স্পষ্ট হবে। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোই এই নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


Share