Iran Oil Sanctions Row

নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরানের তেল বাণিজ্যে সাহায্যের অভিযোগ! ভারতীয় দম্পতি-সহ ৪ নাগরিক ও ৯ সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ আমেরিকার

ইরানের তেল বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্যের অভিযোগে ভারতীয় দম্পতি-সহ চার নাগরিক ও ন’টি সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ আমেরিকার।

এই জাহাজ ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৫৬

ইরানের উপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে সাহায্য করার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার অর্থ দফতরের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম উঠেছে এক ভারতীয় ব্যবসায়ী দম্পতি-সহ মোট চার ভারতীয় নাগরিক এবং ন’টি সংস্থার। অভিযোগ, ভুয়ো সামুদ্রিক রেজিস্ট্রেশন এবং জাল শংসাপত্রের মাধ্যমে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছিলেন অভিযুক্তরা।

আমেরিকার অর্থ দফতরের তালিকায় রয়েছেন চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী সুনীলকুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জশপ্রীত প্রীতি শাহিদ। অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে তাঁরা এই বেআইনি কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন। বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো ওয়েবসাইট ও সংস্থা তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সেই সব সংস্থার মাধ্যমে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবার আড়ালে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থা করা হতো।

আমেরিকার দাবি, গুয়ানা, লাওস, মোজাম্বিক, মালাউ, আরুবা, সেন্ট মার্টিন এবং তিমুর-লেস্তের নামে ভুয়ো সামুদ্রিক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। এর সাহায্যে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলি অন্য দেশের পতাকা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল করত। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে ‘Eswatini Maritime Affairs and International Ship Registry PTE Ltd’ নামে সংস্থা তৈরির অভিযোগও রয়েছে সুনীলের বিরুদ্ধে। যদিও ওই সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছে এসওয়াতিনি সরকার।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে সুনীলের ‘Oceaniek Technologies India’, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত ‘Aryavart Ship Management Private Limited’ এবং আরও সাতটি সংস্থা। তালিকায় রয়েছেন অশ্বিনী কুমার ধীমান ও ইশ্বিন্দর সিংও। অভিযুক্ত সংস্থাগুলির ডিরেক্টর হিসেবে তাঁদের ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আমেরিকার নাগরিক ও সংস্থাগুলি অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনও বাণিজ্যিক বা আর্থিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। আমেরিকায় থাকা তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি তুরস্কের ‘ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। ইরানের ছ’টি নিষিদ্ধ বিমানসংস্থাকে পরিষেবা দিয়ে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Operation Economic Outcast’-এর অধীনে এই পদক্ষেপ। ২৪ অগস্ট ২০২৬ শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রির আয় বন্ধ করা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথগুলি আটকে দেওয়া। আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের স্পষ্ট বার্তা, স্থল, জল বা আকাশপথে ইরানকে সাহায্য করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।


Share