Accident

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় দুর্ঘটনা, ব্লাস্ট ফার্নেসে পড়ে মৃত্যু ঠিকা শ্রমিকের, উদ্ধার দগ্ধ দেহ

নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন সহকর্মীরা। মৃতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, চাকরি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৩:২০

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের। মৃতের নাম শেখ শহিদুল। তিনি দুর্গাপুরের আরতি গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতের শিফটে তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। এই ঘটনাকে ঘিরে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও চাকরির দাবিতে আন্দোলনে নামেন সহকর্মীরা।

কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই একটি রড ভেঙে যায়। শেখ শহিদুল গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পরে সহকর্মীরা তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ল্যাডেলের ভিতরে দগ্ধ দেহ দেখতে পান। আগুনে শরীর এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে সহজে চেনাও সম্ভব ছিল না।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানা চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের দাবি, মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে অবিলম্বে অস্থায়ী চাকরি দিতে হবে। উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করারও দাবি তোলেন তাঁরা।

মৃত শ্রমিকের সহকর্মী মনোজ রুইদাস জানান, তিনি ও শেখ শহিদুল একসঙ্গেই কাজ করছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি বাইরে বিশ্রাম নিতে গেলে ফিরে এসে শহিদুলকে দেখতে পাননি। পরে জানতে পারেন, তিনি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন। মনোজের কথায়, ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তিনি নিজের চোখে দেখেননি। তবে তাঁর অনুমান, কোনও রড ভেঙে যাওয়ার ফলেই শহিদুল নিচে পড়ে যান।

এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।


Share