Extra Collection

ঝাড়খন্ড সীমান্তে ডিমভর্তি ট্রাক থেকে তোলাবাজি, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেও অব্যাহত ‘ডান্ডা ট‍্যাক্স’-এর দাপট

ট্রাক চালকদের অভিযোগ, এমভিআই-এর এই তোলাবাজি বন্ধ হয়নি। ভিনরাজ্য থেকে আসা চালকেরা প্রতিদিনই ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়ছেন। এখানে বৈধ কাগজ দেখালেও অনেক সময় কাজ হয় না।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৪:৩৫

পালাবদল হয়েছে। বিজেপি বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তার পরেও মালবাহী ট্রাক থেকে ‘তোলাবাজি’ অব্যাহত রয়েছে। আসানসোলের পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ট্রাক চালকেরা অভিযোগ করছেন। পরিবহণ দফতরের অধীনে থাকা রামপুরের এমভিআইয়ের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছে।

ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব-সহ দেশের উত্তর ভাগ থেকে পণ‍্যবাহী গাড়ি আসানসোলের রামপুরের ঝাড়খণ্ড-পশ্চিমবঙ্গ সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে। আর সেখানেই বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলিকে এমভিআইয়ের আধিকারিকেরা আটকাচ্ছেন। পণ‍্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ, ‘ওভার হাইট’ বা গাড়ির উচ্চতা বেশি বলে আটকে দেওয়া হচ্ছে। কাঁচামালবাহী ট্রাকও আটকে দেওয়া হচ্ছে। কিছু দালালেরাও এমভিআই দফতরের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়েও প্রতিটা ট্রাক থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ চালকেরা অভিযোগ করছেন।

শান মহম্মদ নামে এক ট্রাক চালক অভিযোগ করেন, তিনি পঞ্জাব থেকে ডিম নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রায় ২২ লক্ষ টাকার ডিম নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় রামপুর এমভিআই আধিকারিকেরা জোরপূর্বক তাঁর গাড়িটি আটকে দেন।চালকের দাবি, তাঁর গাড়ির সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও কাগজপত্র ঠিক নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ শুধুমাত্র সীমানায় ‘এন্ট্রি’ বা ঘুষের টাকা না দেওয়ার কারণে গাড়িগুলিকে আটকে রাখা হচ্ছে। পরে তাঁর কাছ থেকে ছ’হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা এই দাবদাহের মধ্যে ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা তিনি করছেন।

মহম্মদ ইরফান নামে এক কন্টেনার চালক অভিযোগ আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তিনি মোবিল তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানার ‘মামা হোটেল’-এ দালালদের দাপট রয়েছে। ইরফানের দাবি, সেখানে দালালকে তিনি ৫৫০ টাকা ‘এন্ট্রি ফি’ দিয়েছেন। ওই দালাল নিজেকে এমভিআই বিভাগের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও রামপুর সীমানায় গাড়িটিকে ফের জরিমানা করা হয়েছে।

ধানবাদ থেকে আসা বাবুরাম গরাই নামে এক ট্রাক চালকের অভিযোগ, তিনি ওই রাস্তা দিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে আসছিলেন। সেই গাড়িটি থেকেও টাকা নেওয়ার জন‍্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এমনকী, টাকা দেওয়ার পরেও গাড়ির ‘পারমিট’ পরীক্ষার নাম করে ঘন্টা খানেক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। টাকা দেওয়ার পরেও কেন খালি গাড়িকেও ছাড়ছে না— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ধানবাদের বাসিন্দা বাবুরাম গরাই।

ট্রাক চালকদের অভিযোগ, এমভিআই-এর এই তোলাবাজি বন্ধ হয়নি। ভিনরাজ্য থেকে আসা চালকেরা প্রতিদিনই ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়ছেন। এখানে বৈধ কাগজ দেখালেও অনেক সময় কাজ হয় না। টাকা দিলেই গাড়ি এমভিআইয়ের আধিকারিকেরা ছাড়ে।

তৃণমূল জমানার বেলাগাম দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগে যখন দিকে দিকে নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হচ্ছে। গ্রেফতারও হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ, কোনও ভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে ব‍্যবসায়ীরা তোলাবাজির শিকার না হন। তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও এমন অভিযোগ সামনে আসতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কি তাহলে নিচুতলারর সরকারি কর্মী পর্যন্ত পৌঁছোচ্ছে না?— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বিষয় নিয়ে পরিবহণ দফতরের এক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বেশ কয়েক বার যোগাযোগ করা করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। ফোনে মেসেজ করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। এমভিআইয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, চালকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।


Share