Suvendu Adhikari

৩৫ হাজার কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ! অন্ডালে ডিএসপির দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনা, শিল্পে নতুন দিগন্তের আশা

ডিএসপির দ্বিতীয় ইউনিট প্রতিস্থাপন প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি মহলের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল সংখ্যক অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অন্ডাল
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০১:৪৪

রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সামনে রেখে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকলে শিল্প বিনিয়োগের গতি আরও বাড়বে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

নতুন সরকার গঠনের পর শিল্পে বিনিয়োগ টানার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে এসেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (ডিএসপি)-এর সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘোষণা করা হতে পারে। ডিএসপির দ্বিতীয় ইউনিট প্রতিস্থাপন প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি মহলের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল সংখ্যক অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় ১৯৫৭ সালের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৩টি ব্রিটিশ সংস্থার কনসোর্টিয়াম ‘ইন্ডিয়ান স্টিল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল। ১৯৫৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ডিএসপি। পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালের এপ্রিলে প্রথম ইস্পাত পিণ্ড ঢালাই করা হয় এই কারখানায়। বর্তমানে স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধীনস্থ এই প্ল্যান্ট দেশে ফোর্জড রেলওয়ে হুইল এবং অ্যাক্সেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ডাল বিমানবন্দরের কাছে সেলের মালিকানাধীন প্রায় ৯০০ একর জমিতে ডিএসপি-র দ্বিতীয় ইউনিট প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু জমিটি আগে থেকেই সেলের অধীনে রয়েছে, তাই জমি অধিগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন হবে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই জমিতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে বড় শিল্প বিনিয়োগে অনীহা দেখা দেয়। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিল্প সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ইস্পাত মন্ত্রক সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই প্রকল্পটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


Share