Coal Scam

কয়লা পাচারকারীদের কাছ থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’ নিয়ে চুরিতে সাহায্য করার অভিযোগ, আর্থিক তছরুপ মামলায় গ্রেফতার ওসি মনোরঞ্জন

সময় দুর্নীতি হয়েছে সেই সময় তিনি আসানসোলের বারাবনি থানায় ওসি ছিলেন। সেই সময় তাঁকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছিল ভবানী ভবন।

গ্রেফতার মনোরঞ্জন মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১০:৪৭

বারাবনি থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলকে গ্রেফতার করল ইডি। বৃহস্পতিবার মনোরঞ্জন সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে এসেছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে ইডি তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না। তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। কয়লাপাচার কাণ্ডে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে ইডি গ্রেফতার করেছে।

মনোরঞ্জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রানিগঞ্জ, আসানসোলের কয়লাবেল্টে চুরি করা কয়লা পাচার করতে মাফিয়াদের সাহায্য করেছেন। তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ নিয়েছেন। সেই টাকা কোথায়, কোন প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছে গিয়েছে তারই সূত্র খুঁজে পেতে এর আগে চার বার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তা-ও তিনি যাননি। ইডির নির্দেশ অমান্য করায় তদন্তকারীরা আইনি পথে হাঁটার কথাও চিন্তাভাবনা করে।

গত ১১ মার্চ সকালে অম্বুজা নগরের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে ইডির তদন্তকারীরা। সে দিন তাঁর বাড়িতে একটি নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ সিজিও কমপ্লেক্সে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে হাজির হতে হবে মনোরঞ্জনকে। এর আগে এই মামলায় তাঁর স্ত্রীকেও তলব করা হয়েছিল। তিনি যাননি। গত ১৪ মে মনোরঞ্জনের সন্ধান পেতে আসানসোলের কমিশনারকে ইডি চিঠি দিয়েছিল।

যে সময় রমরমিয়ে কয়লা পাচার চলছিল সেই সময় মনোরঞ্জন মন্ডল বারাবনি থানার ওসি ছিলেন। ২০২৪ সালে বারাবনি থানায় ওসি থাকাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছিল। ভবানী ভবনের নির্দেশে তৎকালীন আসানসোলের পুলিশ কমিশনার সুনীলকুমার চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছিলেন। পরে তাঁকে বুদবুদ থানায় ওসি পদে বদলি করা হয়। পরের দিনই নির্দেশিকা বাতিল করে তাঁকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়।

এ দিন সকালে কয়লাপাচার মামলায় ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে আসেন। সকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডি সূত্রের খবর, কয়লাপাচারে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তাঁর সামনে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডির তদন্তকারীরা। তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। তদন্তের অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের ১৯ নম্বর ধারায় মনোরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ১০ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে।


Share