Nederlands Turmoil

বিশ্বকাপে হারতেই উত্তপ্ত নেদারল্যান্ডস, হেগ শহরে দাপাদাপি, ভাঙচুর, গ্রেফতার একাধিক মরক্কোর নাগরিক

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি, মরক্কো ম‍্যাচ জিততেই হাজার হাজার যুবক প্রথমে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে সেলিব্রেশন শুরু করেন। শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও তা শীঘ্রই রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। জয় উদযাপনের এক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কিছু সমর্থক সিল্ডারউইক জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ভায়ালানটানে জমায়েত শুরু করে।

বিশ্বকাপে হারতেই উত্তপ্ত নেদারল্যান্ডস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নেদারল্যান্ডস
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১০:৫৭

সম্ভাবনা ছিলই, হলও তাই। নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচের পরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একাধিক শহর। দেশজুড়ে একাধিক মরক্কোর নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। অভিযোগ, মরক্কো জিততেই দেশের একাধিক জায়গায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি, মরক্কো ম‍্যাচ জিততেই হাজার হাজার যুবক প্রথমে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে সেলিব্রেশন শুরু করেন। শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও তা শীঘ্রই রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। জয় উদযাপনের এক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কিছু সমর্থক সিল্ডারউইক জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ভায়ালানটানে জমায়েত শুরু করে। রাস্তায় আগত গাড়ির ওপরে চেপে লাফ-ঝাঁপ শুরু করে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। তাঁদের লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি শুরু করে। এমনকী, বাজি ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। বাধ্য হয়েই পুলিশকে জল কামানের প্রয়োগ করতে হয়। প্রচুর মরক্কোর সমর্থকদের পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। শেষমেশ ১০ জন গ্রেফতার হন।

ছবিটা রটারড্যামের ক্ষেত্রেও একই ছিল। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ওয়েস্ট-ক্রুইসকেড জেলায় বিপুল মরক্কো সমর্থক জমায়েত করে। তাদের মধ্যে চার জনকে শান্তি বিঘ্ন করা এবং মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এমনকী, পুলিশকে লক্ষ্য করে টবে বসানো গাছ ছোড়া হয় বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

মরক্কো জেতার পরে গোটা দিনরাত কার্যত তান্ডব চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। তাদের এ-ও বক্তব্য, এই বিষয়ে স্থানীয়দের কেউই মুখ খুলতে চায়নি। বরং অনেককেই মুখোশ পরিহিত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। নিজেদের আসল পরিচয় লুকোতে মুখোশ ব‍্যবহার করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো নদীর এপার-ওপার। মরক্কো মূলত সুন্নি মুসলমান সম্প্রদায়ের দেশ। আর নেদারল‍্যান্ডসে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি রয়েছে। দু’দেশের মাঝ দিয়ে মেডিটেরানিয়ান নদী বয়ে গিয়েছে। কয়েক যুগ ধরে নদী পার করে মরক্কো থেকে বহু মানুষ অপরপ্রান্তে নেদারল্যান্ডসে গিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মরক্কোর বংশোদ্ভূত মানুষেরা বসবাস করেন। দেশে অভিবাসী সংখ্যার নিরিখে নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় সর্বাধিক। এই বিরাট সংখ্যক অভিবাসীর উপস্থিতির কারনে সরকার বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ এই ম্যাচে বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করেছিল।

গত বারের বিশ্বকাপের সময় নেদারল্যান্ডসে রটারড্যাম, ইউট্রেক্ট, হেগ শহরে মরক্কোর কোনও ম‍্যাচের স্ক্রিনিং হবে না বলে সরকার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এ বার ম্যাচ সেই দেশের বিরুদ্ধেই হওয়ায় কোনওরকম নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঝামেলা হতে পারে আশঙ্কা করেই সম্ভবত নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বড় শহরে ম্যাচের রাতে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। কোনও অবৈধ কার্যকলাপ দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাতেও অশান্তি এড়ানো গেল না।

উল্লেখ্য, মরক্কোর বংশোদ্ভূত ইব্রাহিম আফেলই, হাকিম জিয়েখরা কোনও না কোনও স্তরে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলেছিলেন। ম্যাচের আগেও আফেলাই, ভ্যান ডার ভাটদের মন্তব্য ঝাঁঝ বাড়িয়েছিল। 

প্রসঙ্গত, কোডি গ্যাকপোর দ্বিতীয়ার্ধের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচে বল দখলের নিরিখে গোটা প্রথমার্ধেই ডাচরা দাপট দেখেছিল। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, যখন নেদারল্যান্ডসের জয় সুনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ইসা ডিয়প জোরাল হেড করে মরক্কোকে ম‍্যাচে ফেরান। এরপরে অতিরিক্ত সময়ে আর কোনও গোল হয়নি। শেষমেশ পেনাল্টিতে পরাজিত হয় নেদারল্যান্ডস। পেনাল্টির ৪-৩ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে রাউন্ড অফ ১৬-তে পৌঁছে যায় মরক্কো।


Share