Abhishek Banerjee & Suvendu Adhikari

অভিষেককে ‘সোডিয়াম-পটাশিয়াম’ খোঁচা শুভেন্দুর, পুলিশকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদের

অভিষেকের পুলিশকে হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা কটাক্ষ শুভেন্দুর, ‘সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গন্ডগোল’ মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বাড়ল উত্তাপ।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:২৭

রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের একাংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় ফিরলে বিজেপি নেতাদের নির্দেশে কাজ করা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিষেকের সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সল্টলেকে জনতার দরবারে দাঁড়িয়ে অভিষেককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘ওঁর সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গন্ডগোল হয়েছে।’ দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ ঘিরে নতুন করে চড়ল রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ।

অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি  নেতাদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের একাংশ তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সতর্ক করে তিনি বলেছিলেন, ‘শুভেন্দুর অঙ্গুলি হেলনে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। আমাদের সরকার এলে তাঁরা বাঁচবেন না।’ এমনকি কারও পায়ে ধরলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ।

অভিষেকের এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে এ দিন তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের হয়ে টাকা তুলতেন অভিষেকের এমন এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাকি সব কথা জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। পাশাপাশি, তৃণমূলের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে অভিষেকের ফেসটাইমে যোগাযোগ থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পরেই কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মনে হয় সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গন্ডগোল হয়েছে। নিউ ইয়র্কে যেতে চাইছেন, যান। আমরা এনওসি দিয়ে দেব।’ গত সেপ্টেম্বরে চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের আমেরিকা সফরের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও বক্তব্যে সরাসরি অভিষেকের নাম নেননি মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে রাজ্যে সরকার গড়েছে বিজেপি। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০৩১ সালে। ফলে ক্ষমতায় ফিরতে তৃণমূলকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই অভিষেককে নিশানা করে শুভেন্দুর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share