Child Marriage

বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া নজরদারি, বয়স বাড়িয়ে ভুয়ো আধার তৈরির অভিযোগ মুর্শিদাবাদে

নাবালিকা প্রসূতিদের বয়স বাড়িয়ে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে বেসরকারি নার্সিংহোমে জমা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বহরমপুর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় এমন ঘটনা সামনে এসেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০১

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের সন্তানের জন্ম হলে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই আইনি পদক্ষেপ এড়াতেই নাবালিকা প্রসূতির বয়স বাড়িয়ে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে হাসপাতালে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায়। বহরমপুরের একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোমে এমন ঘটনা সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই কোনও মেয়ে সন্তানের জন্ম দিলে সংশ্লিষ্ট স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার নিজে থেকেই মামলা দায়ের করবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক ভাতা থেকেও অভিযুক্তদের বঞ্চিত হতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় নাবালিকা স্ত্রীর সন্তান জন্মের পর তাঁদের স্বামীদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নজর এড়াতে বয়স সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাবালিকা মায়েদের সংখ্যার নিরিখে মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গে শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। নাবালিকা বিয়ের ক্ষেত্রেও মুর্শিদাবাদ এগিয়ে। অভিযোগ, এই জেলায় অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের বয়স বেশি দেখিয়ে নতুন করে আধার কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় অনেকের বয়স ১৯ বা ২০ বছর বলে জানানো হচ্ছে। তবে পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিচ্ছেন। সেখান থেকেই ভুয়ো নথি ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ছবি ও নথি পরীক্ষা করে এমনই একটি ঘটনার সন্ধান মিলেছে। ফতেমা খাতুন (নাম পরিবর্তিত) নামে এক নাবালিকার আধার কার্ডে জন্মতারিখ বদলে ১৪ মার্চ ২০০৮ করা হয়েছিল। ওই তারিখ অনুযায়ী তাঁকে প্রাপ্তবয়স্ক বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তদন্তে আধার কার্ডটি জাল বলে জানা গিয়েছে। ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই বেসরকারি নার্সিংহোম ও চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রসব সংক্রান্ত চিকিৎসা করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

বহরমপুরের এক নার্সিংহোমের এক চিকিৎসকের কথায়, আধার কার্ডের তথ্য পরিবর্তন করা বা জাল পরিচয়পত্র তৈরি করা আইনত অপরাধ। বয়স বাড়িয়ে তৈরি করা এমন কার্ড নার্সিংহোমে জমা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে প্রসূতির প্রকৃত বয়সের অসঙ্গতি বোঝা যাচ্ছে।

পুলিশের দাবি, শুধু বহরমপুর নয়, রঘুনাথগঞ্জ, সুতি এবং শমসেরগঞ্জ থানা এলাকাতেও একই ধরনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবার সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির উপরেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।


Share