Tahsif Sauri Death Mystery

হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল ভিডিয়ো থেকে চাকরি হারানো, তুরাগে প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে আলোচনায় আসা প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক তাহসিফ সাউরির দেহ উদ্ধার তুরাগ নদ থেকে, মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা।

প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক কে এম তাহসিফ সাউরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৯

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিয়ো ঘিরে একসময় আলোচনায় এসেছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক কে এম তাহসিফ সাউরি। এ বার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হল ২৮ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের দেহ। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ। অন্য দিকে, ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করেছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাড়ি থেকে এক পরিচিত যুবক দীপের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দু’জনকে আলাদা মোটরসাইকেলে বেরোতে দেখা যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হয়নি। পরদিন, ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখান থানা এলাকার রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ নেই। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পাকস্থলী, লিভার, কিডনি ও রক্তের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ। এদিকে, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সঙ্গে নেওয়া তাহসিফের মোটরসাইকেলটিরও খোঁজ মেলেনি।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে তাঁর ভারতে চলে যাওয়ার ভিডিয়ো সামাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিয়ো প্রথম শেয়ার করার নেপথ্যে তাহসিফ ছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। ওই ঘটনার পর তাঁর চাকরি হারানোর বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, প্রায় ২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তবে ভাইরাল ভিডিয়োর সঙ্গে চাকরি হারানোর সরাসরি যোগসূত্র নিয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

ময়নাতদন্তের পর তাহসিফের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উত্তরায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে পরিবার।


Share