Tata Consultancy Service

কর্পোরেট সংস্থাকে ব্যবহার করে ধর্মান্তরকরণের গ‍্যাং চালানোর চালানোর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার ছ’জন

গত তিনদিন আগে টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের এক মহিলা কর্মী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় মোট ন’টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ ভুক্তভোগীরাই করেছেন।

ঘটনায় ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৮

কর্পোরেট সংস্থাকে ব‍্যবহার করে ধর্মান্তরকরণের গ‍্যাং চালানোর অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের নাসিক ইউনিটে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, ওই ইউনিটে কর্মরত হিন্দু মহিলাদের নমাজ পড়তে জোর করা হত। ধর্মান্তরকরণের জন্য চাপ দেওয়া হত। এমনকী, দিনের পর দিন মহিলা হিন্দু কর্মীদের যৌন হেনস্থারও করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে।

ধৃতদের নাম আসিফ আনসারি, সোফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং দানিশ শেখ। ধৃতেরা সবাই টিসিএস-এর নাসিকের ইউনিটে কর্মরত ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতেরা ওই ইউনিটে টিম লিডার হিসেবে কর্মরত ছিল। অভিযোগ, গত ২০২২ সাল থেকে কয়েক জন হিন্দু মহিলা কর্মীদের গোমাংস খাওয়ানো, নমাজ পড়তে বাধ্য করা এবং ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরকরণের জন‍্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এমনকী, তাঁদের কথা মানতে অস্বীকার করায় ওই মহিলা কর্মীদেরকে যৌন হেনস্থাও দিনের পর দিন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরে এসব কর্মকাণ্ডের কথা এইচআরকে জানানোর পরেও কোনও পদক্ষেপ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, টিসিএস-এর ওই মহিলা ইউনিটের এইচআর একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই এইচআর-কে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি নাকি নির্যাতিতাদের ‘শান্ত’ থাকার জন্য বলেন। কর্পোরেট সংস্থায় এমন ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম’ বলে উড়িয়ে দিতেন।

গত তিনদিন আগে টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের এক মহিলা কর্মী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় মোট ন’টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ ভুক্তভোগীরাই করেছেন। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে, ধৃতেরা কর্মক্ষেত্রের ভেতরে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। বেছে বেছে ভুক্তভোগীদের টার্গেট করত। ধৃতেরা প্রথমে কোনও মহিলা কর্মীকে ব‍্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করত। এর পরে ভুক্তভোগীদের মানসিক সমস্যা, বৈবাহিক সম্পর্কে অবস্থা জেনে ‘টার্গেট’ করা হত। এর জন‍্য একটি হোয়াটঅ‍্যাপে একটি গ্রুপ তৈরি করেছিল তারা। তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রচারমূলক ভিডিয়ো প্রভাবিত করার পোস্ট করা হত। এই গ‍্যাং কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

যদিও টিসিএস-এর দাবি, “যে কোনও ধরনের হয়রানি এবং জবরদস্তির বিরুদ্ধে টিসিএসের দীর্ঘদিনের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। আমরা সবসময় কর্মক্ষেত্রে আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেছি।” অর্থাৎ সংস্থাটি নিজেদের কোনও দায় স্বীকার না করে এবং বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে জানিয়েছে, “অভিযুক্ত কর্মীদের দ্রুত বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।”


Share