Terrorist Arrested

দেশজুড়ে নাশকতা চালানোর ছক! ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার হয়ে প্রশিক্ষণ, হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার এক মহিলা

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাড়িতে রান্নার ভিডিয়ো করে রিলস বানাত। পরে এলাকায় দর্জির দোকানে গিয়ে তাদের প্রচারের জন্য রিলস তৈরি করত। তার তৈরি ভিডিয়ো থেকে অর্ডার এলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেত।

ইসলামিক জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক মহিলা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হায়দরাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৬

দেশজুড়ে নাশকতা চালানোর ছক। অভিযোগ, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার হয়ে প্রশিক্ষণ দিত এক মহিলা। তাকে আন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম সায়েদা বেগম (৩৮)। সায়েদা হায়দরাবাদের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, সায়েদা অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিদের মতাদর্শ ছড়ানো এবং বিভিন্ন রাজ্যে যুবকদের ভুল বুঝিয়ে সেই কাজে নিয়োগ করত। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সায়েদা এমন কিছু অনলাইন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন যেখানে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার জঙ্গি ওসামা বিন লাদেনের ভিডিয়ো এবং জাকির নায়েক ও ইসরার আহমেদের মতো ইসলামিক প্রচারকদের বক্তব্য প্রচার করা হতো। এ সব গ্রুপে আইএসআইএস এবং আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-সংক্রান্ত নানা প্রচারমূলক ভিডিয়ো ও উপকরণ ছড়ানো হতো।

সংবাদসংস্থা পিটিআই এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সূত্রে জানিয়েছে, সায়েদা যে চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তার পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এবং আইএসআইএস ও AQIS-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সায়েদা রহমতুল্লাহ শরিফ নামে প্রধান অভিযুক্তের সঙ্গে কাজ করত। রহমতুল্লাহ এই চক্রের নেতৃত্বে ছিল। শরিফ ও তার সহযোগীদেরও মার্চ মাসে গ্রেফতার করা হয়েছে। ‘ডেকান ক্রনিকল’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সায়েদা ইতিমধ্যে ৪২ জন মহিলাকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছিলেন।

এক রংমিস্ত্রির সঙ্গে সায়েদার বিয়ে হয়েছিল। ছেলের জন্মের পর সায়েদা আর স্বামীর কাছে ফিরে যায়নি। চার বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয় দু’জনের। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, সায়েদা হায়দরাবাদের চাঞ্চলগুডার বাসিন্দা। চাঞ্চলগুডার একটি দুই কক্ষের ভাড়া বাড়িতে বাবা-মা ও ছ’বছরের ছেলেকে পরিবার-সহ থাকত। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সায়েদা ২-৩টি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাত। খুব কমই কারও সঙ্গে মিশত। সায়েদার মা বলেছিলেন, সায়েদা বেশিরভাগ সময় ফোনেই কাটাত।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাড়িতে রান্নার ভিডিয়ো করে রিলস বানাত। পরে এলাকায় দর্জির দোকানে গিয়ে তাদের প্রচারের জন্য রিলস তৈরি করত। তার তৈরি ভিডিয়ো থেকে অর্ডার এলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেত।

তবে সায়েদা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার আইনজীবীর দাবি, তিনি কোনো গ্রুপ তৈরি করেনি। অজান্তেই তাকে এ সব গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, সায়েদা জানিয়েছে যে ৭-৮ মাস আগে সে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক পায়। সেটাই পরে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস-সমর্থকদের ভিডিয়ো প্রচারকারী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর বলে জানতে পারে তদন্তকারীরা।

২৫ মার্চ বিজয়ওয়াড়া পুলিশ সায়েদাকে গ্রেফতার করার পর তদন্তে জানা যায়, “খাওয়াতিন” নামে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আলাদা মহিলা শাখা গঠনের পরিকল্পনা ছিল। তার নেতৃত্বে সায়েদাকে বসানোর কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল, মহিলা সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র, স্নাইপার রাইফেল ও বিস্ফোরক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশজুড়ে হামলা চালানো।


Share