Narendra Modi

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানি সংকট নিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী, ফের কেন্দ্রকে নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গ্যাসের সমস্যার জেরে নাজেহাল অধিকাংশ মানুষই। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলাকালীন জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরববরাহ নিয়ে দেশ কতটা প্রস্তুত এবং কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়েই এই বৈঠক করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৩

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে হবে এই বৈঠক। তবে যেসব রাজ্যে নির্বাচন চলছে সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে না। এই আবহে লকডাউনের কথা মনে করিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন। তবে এর পাল্টা জবাবও এসেছে।

গ্যাসের সমস্যার জেরে নাজেহাল অধিকাংশ মানুষই। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলাকালীন জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরববরাহ নিয়ে দেশ কতটা প্রস্তুত এবং কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়েই এই বৈঠক করা হবে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম, পুদুচেরিতে নির্বাচন রয়েছ। সেকারণে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে ওই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের ওই তালিকায় রাখা হচ্ছে না। সেই রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতেও বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীকে লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের কথা মনে করিয়ে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করেছেন।

ওয়াকিবহল মহলের একাংশের মতে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের সমস্যা দেখে দেবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্য়াস, বাণিজ্য়িক সিলিন্ডার, অটোর গ্যাস, ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দাম বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেরও৷ এই পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদির ভুল বিদেশ নীতিই দায়ী বলে বারবার দাবি করছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রথমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে মুখ খুললেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, শুক্রবার ভারতের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনের চেয়েও বেশি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ আছে। আর ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি রিজার্ভের ব্যবস্থা করার জন্য দেশ কাজ করছে। তেল কোম্পানিগুলির কাছে যে রিজার্ভ থাকে, সেটা আলাদা। চেষ্টা এটাই যে যেখান থেকে হোক, সেখান থেকে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ যেন চলতে থাকে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-সহ অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে, সপ্তাহের শুরুতে সংসদের উভয় কক্ষেও এই ইস্যুতে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই পাশাপাশি, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত সচিব গোষ্ঠী গঠন করেছে, যারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই গোষ্ঠীগুলি ২০২০ সালে অতিমারির সময় গঠিত বিশেষ গোষ্ঠীগুলির আদলে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য সংকটের মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা যায়।


Share