Repo Rate

নভেম্বরেই ৬.৮% ছুঁতে পারে মূল্যবৃদ্ধি! নিত্যপণ্যের চড়া দামে নাজেহাল আম জনতা, ডিসেম্বরে ফের ০.৫% রেপো রেট বাড়ানোর আশঙ্কা

স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) রিসার্চ বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে পূর্বাভাস, আগামী নভেম্বরেই দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৭ থেকে ৬.৮ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০০

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া দামেই জেরবার সাধারণ মানুষ। মূল্যবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রিজার্ভ ব্যাংকেরও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানোর জল্পনা ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) রিসার্চ বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে পূর্বাভাস, আগামী নভেম্বরেই দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৭ থেকে ৬.৮ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। সেই চাপ সামাল দিতে ডিসেম্বর মাসে রিজার্ভ ব্যাংক ফের রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৫ শতাংশ বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এসবিআই। এমনটা হলে বাড়ি, গাড়ি-সহ বিভিন্ন ঋণের মাসিক কিস্তির বোঝা আরও বাড়ার সম্ভাবনা।

সেপ্টেম্বরে দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশে। আগস্টে এই হার ছিল ৪.৮২ শতাংশ। নতুন মাপকাঠিতে হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যবৃদ্ধির এই হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও লেবুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেশি। গ্রামীণ অঞ্চলে এই হার ৬.০৮ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে তা ৪.৮৮ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মার্চে এই হার ৩.৬৭ শতাংশ থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৪.৩৪ শতাংশ হয়েছে।

উদ্বেগের আরও একটি কারণ, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন আর হাতে গোনা কয়েকটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ছে বাজারের বিস্তৃত অংশে। এসবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্টে মোট মূল্যবৃদ্ধির ৭৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল ২৫টি পণ্য। সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১। এর পাশাপাশি দুর্বল বর্ষা, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের চড়া দাম এবং টাকার দরপতন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত থেকে ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ বেরিয়ে গিয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের গড় মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশ করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমান, অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৪.৯ শতাংশ, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৬ শতাংশ এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৫.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়া তৃতীয় ত্রৈমাসিকেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ সর্বাধিক হওয়ার আশঙ্কা। উৎসবের মরশুমে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের খরচের উপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

এসবিআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসেম্বর মাসে রেপো রেট আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করতে পারে রিজার্ভ ব্যাংক। যদিও এটি এখনও একটি পূর্বাভাস, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আর্থিক পরিস্থিতি ও মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির উপর। তবে ঋণের সুদের হার বাড়লেও আমানত বা সঞ্চয় প্রকল্পে সুদ একই হারে বাড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে একদিকে নিত্যপণ্যের চড়া দাম, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা—দুইয়ের চাপে সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা।


Share