Sheikh Hasina

ফাঁসির সাজা হতেই, ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফরত পাঠানোর আর্জি বাংলাদেশের

সাজা ঘোষণার পরই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতককে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করার আবেদন সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের।

সাজা ঘোষণার পরে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। শুধু একা হাসিনা নন, একই সাজা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানেরও। সাজা ঘোষণার পরই এ বার তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করল সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সাজাপ্রাপ্ত দুই ‘পলাতককে’ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হল। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে মনে করাল প্রত্যর্পণ চুক্তির কথাও!

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের (হাসিনা ও আসাদুজ্জামান) দ্বিতীয় কোনও দেশ আশ্রয় দেয়, তবে তা ‘অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ’ হবে, যা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল! বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।’’ বিবৃতির শেষে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ভারত সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা। বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে’ এটি ভারতের অবশ্যই পালন করা দায়িত্ব।

বিদেশ মন্ত্রক ছাড়াও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারও বিবৃতি জারি করে হাসিনাদের সাজার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছে ইউনূস প্রশাসন। পাশাপাশি, দেশের সকলকে শান্ত, সংযত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে, রবিবার থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দফায় দফায় অশান্তির খবর আসছে। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাড়ি, বাস, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। সোমবারও একই ছবি দেখা যায়। তবে শুধু বিক্ষোভ নয়, রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশের কোথাও কোথাও উচ্ছ্বাসের ছবিও দেখা গিয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশের সরকার জনগণকে সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইউনূস সরকার আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যে কোনও ধরণের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনাই। ওই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৬ সালে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে চুক্তি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত চুক্তিতে বলা হয়, কারও নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণস্বরূপ কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে হবে না। হাসিনার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সংশোধিত চুক্তি অনুসারেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করার আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।


Share