Voter Card

শান্তিপুরে পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে উদ্ধার ১৫টি ভোটার কার্ড, ‘ভুয়ো ভোট’-এর অভিযোগে সরব বিজেপি

উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির ঠিকানা ও তারিখ নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ‘ভুয়ো ভোটার’ ও ‘ডাবল ভোট’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্ডগুলি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।

ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৪

শান্তিপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ ঘোষ মার্কেট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে প্রায় ১৫টি ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির মধ্যে স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নাম রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কার্ডগুলির ঠিকানা, তারিখ এবং আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ঘিরে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ডাবল ভোট’ এবং ‘ভুয়ো ভোটার’ তৈরির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ঘোষ মার্কেট সংলগ্ন ওই পরিত্যক্ত জঙ্গলে স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত মন্ডল বেশ কিছু ভোটার কার্ড পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তিনি বিজেপির চার নম্বর মণ্ডল সভাপতি পিকুল বিশ্বাসকে জানান। শুক্রবার সকালে পিকুলবাবু শান্তিপুর থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। ভোটার কার্ড উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির কয়েকটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, কারও কার্ডে এমন তারিখ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রথমবার ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করার সময়েরও আগের। আবার কোনও কার্ডে দেওয়া ঠিকানার অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উদ্ধার হওয়া কার্ডের মধ্যে মায়া সরকার নামে এক মহিলার কার্ড দেখতে পান তাঁর বৌমা। তাঁর দাবি, মায়া সরকার ভোটার কার্ডের আবেদনের পর পাওয়া স্লিপ দেখিয়ে পর পর দু’বার ভোট দিয়েছিলেন। পরে নতুন কার্ডও পেয়েছিলেন। কিন্তু জঙ্গল থেকে পাওয়া কার্ডে থাকা তারিখ তাঁদের প্রথম আবেদন করার সময়ের আগের। ফলে ওই কার্ড কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন।

আবার মঞ্জু বণিক মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কার্ডে হরিপুরের যে ঠিকানা দেওয়া রয়েছে, সেই ঠিকানার অস্তিত্ব নিয়েও স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ, ওই ঠিকানা থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার পর পরবর্তীকালে তা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে।

পবিত্রা বিশ্বাস নামে এক মহিলার কার্ড নিয়েও একইভাবে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর স্বামী সুশান্ত বিশ্বাসের দাবি, ডিজিটাল ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করা হলেও নতুন কার্ড তাঁদের হাতে পৌঁছোয়নি। বাড়িতে এখনও পুরনো কার্ডই রয়েছে। তাহলে নতুন কার্ডটি কীভাবে ওই জঙ্গলে এল, তা নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএলও এবং তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরব হয়েছে। বিজেপির শক্তি প্রমুখ গোবিন্দ ভৌমিকের অভিযোগ, এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ভোটার তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ডাবল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যেই একাধিক কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

গোবিন্দ ভৌমিক বলেন, “এলাকায় প্রচুর ভুয়ো ভোটার তৈরি করা হয়েছিল। ডাবল ভোট দেওয়ার জন্যই এই কার্ডগুলি তৈরি করা হয়েছিল বলে আমাদের অভিযোগ। পুলিশ প্রশাসন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনুক।”

একসঙ্গে এতগুলি ভোটার কার্ড পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে কীভাবে এল, কারা এগুলি তৈরি বা বিতরণ করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলির তথ্য ভোটার তালিকার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়। শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share