Accident

মাকে শেষ দেখা হল না, ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু ছেলেরও! একই দিনে মা-ছেলেকে হারিয়ে শোকে পরিবার

সুজনিপাড়া এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩০

মা আর নেই! মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দেখা আর হলো না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল যুবকের। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ঘটনায় একই দিনে মা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবার।

মৃত যুবকের নাম আহসান আলি। তাঁর বাড়ি সামশেরগঞ্জের শেরপুরে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আহসানের মা সালেমা বিবি (৬০) জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর খবর ফোনে পাওয়ার পর দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েন আহসান।

জানা গিয়েছে, ট্রেনে উঠে তিনি জানালার ধারের সিটে বসেছিলেন। গভীর রাতে দ্রুত গতিতে ট্রেন ছুটছিল। সুজনিপাড়া এলাকা পার হওয়ার সময় আচমকাই ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েন আহসান। কীভাবে তিনি ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁর আর্তনাদ শুনতে পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় আহসানকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

একদিকে মায়ের মৃত্যু। অন্য দিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলের মৃত্যু। দু'টি মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের উপর জোড়া শোক নেমে এসেছে। শেরপুরের বাড়িতে এখন কান্নার রোল। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।

রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কীভাবে আহসান চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

একই দিনে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকে পাথর স্বজনরা। যে ছেলে মাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন, শেষ পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে তাঁরও হল না দেখা। বরং একই দিনে দু’জনের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে পরিবারকে।


Share