Special Intensive Revision

এসআইআর-এর কাজে কোনও বাধা বরদাস্ত নয়, সব রাজ‍্যকে তা বুঝে নিতে হবে, কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের অভিযোগ, রাজ‍্যের কাছ থেকে বারবার পর্যাপ্ত কর্মী চাওয়া হলেও রাজ‍্য সরকার দেয়নি। এমনকী, বিএলও, ইআরও, এইআরও এবং ডিইও-র সাম্মানিক বাবদ টাকা প্রথম কিস্তিতে মেটানো বাকি টাকার অনুমোদন এখনও রাজ‍্যের অর্থ দফতরের দেয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা।, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৩৮

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এফআইআর)-এর কাজে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নির্দেশ, এসআইআর হবেই। সেই কাজে কোনও ভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় এমনটাই সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে। এ কথা পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ‍্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে এসআইআর হচ্ছে, তাঁদেরকেও এই নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে এসআইআর করার কোনও যুক্তি নেই। তিনি মনে করেন, এত দ্রুত এতো বড় কাজ সঠিক ভাবে করা সম্ভব হবে না। তিনি এ-ও মনে করেন, ২০০২ সালে এতো কম সময়ে এসআইআর হয়নি। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই ২০২৫ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ বারের নির্বাচন হোক। ভোটের পরে এসআইআর করা হোক। 

এ ছাড়াও, এসআইআরের কারণে রাজ্যের সাধারণ মানুষের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের চাপে অন্তত দেড়শো জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বুথ স্তরের আধিকারিকও মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সব বিষয় নিয়ে মুখ‍্যমন্ত্রী হিসেবে নিজস্ব প‍্যাডে ছ’বার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে এসআইআর বাতিলে দাবি জানান।

অন‍্যদিকে, এসআইআর নিয়ে রাজ‍্যের একাধিক জায়গার শুনানিকেন্দ্রে অশান্তি হয়েছে। ফরাক্কার বিডিও অফিসে ঢুকে তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাঙচুরও হয়। সেই কমিশনের কর্মীদেরও মারধর করা হয়। তান্ডবের রোষানলে পড়ে মাথা ফাটে থানার আধিকারিকের। আবার এসআইআরের কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে ফলতায় কমিশনের রোল অবজার্ভার সি মুরুগানের গাড়িতে ভাঙচুর হয়। সেই সময়ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

বাদ যায়নি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরও। সেখানেও তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভে বারে বারে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৈঠক করে নিজের দফতরে যাওয়ার সময় মনোজকুমার আগরওয়ালের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভও দেখায় তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।

সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের অভিযোগ, রাজ‍্যের কাছ থেকে বারবার পর্যাপ্ত কর্মী চাওয়া হলেও রাজ‍্য সরকার দেয়নি। এমনকী, বিএলও, ইআরও, এইআরও এবং ডিইও-র সাম্মানিক বাবদ টাকা প্রথম কিস্তিতে মেটানো বাকি টাকার অনুমোদন এখনও রাজ‍্যের অর্থ দফতরের দেয়নি। এসআইআরের কাজে বারেবারে রাজ‍্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে সিইও দফতর।

গত শুনানিতে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছিলেন। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতি মমতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত লোকের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, তা নিশ্চিয়ই আপনি চান না? আমাদের উদ্দেশ্য কোনও প্রকৃত ভোটার যেন বাদ না যান।" সোমবার সেই মামলার ফের শুনানি হয় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সেই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এফআইআর)-এর কাজে হবেই। সেই কাজে কোনও ভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। রাজ্যকে বুঝতে এটা বুঝে নিতে হবে। এসআইআর প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠভাবে চলার জন্য সুপ্রিম কোর্ট যা নির্দেশ দেওয়ার দেবে বলেও জানান দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।


Share