Panihati Municipality

পানিহাটি পুরসভার অচলাবস্থায় কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা, দেড় হাজার কর্মীর বেতন-সহ নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস

তিনি আরও জানান, পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘পানিহাটি পুরসভার অব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসক নিয়োগ করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পানিহাটি পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পানিহাটি
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩৮

পানিহাটি পুরসভার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ঘোষণা করেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। তাঁর দাবি, নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘পানিহাটি পুরসভার অব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসক নিয়োগ করে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পালাবদলের পর রাজ্যের অন্যান্য পুরসভার মতো পানিহাটি পুরসভাতেও প্রশাসনিক কাজকর্ম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরপ্রধান সোমনাথ দে অনুপস্থিত থাকায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, পুরসভার দুই জনপ্রতিনিধি বর্তমানে জেলবন্দি এবং ১৩ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। অনেক কাউন্সিলারও নিয়মিত পুরসভায় আসছেন না। পুরপ্রধানের অনুমোদনের অভাবে ‘আশা’, ‘নির্মল বন্ধু’, ‘নির্মল সাথী’ এবং ডেঙ্গি প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মীর বেতন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এর জেরে সাফাই-সহ একাধিক অত্যাবশ্যক নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে পুরবোর্ডের কোনও বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও কার্যত থমকে রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বুধবার বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে পানিহাটি পুরসভা চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অচলাবস্থা কাটাতে গত ৯ জুলাই ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠান পানিহাটি পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক। রিপোর্টে বিকল্প স্বাক্ষরকারী নিয়োগ বা পুরপ্রধানের দায়িত্ব পালনের জন্য অন্য কোনও কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। পরে সেই রিপোর্ট রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠানো হয়। প্রশাসনের একাংশের আশা, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট কাটিয়ে পানিহাটি পুরসভার কাজকর্ম ও নাগরিক পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। 


Share