Narendra Modi

‘আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাই’, দিল্লির ব্রিক্‌স সম্মেলন থেকে মোদীর বার্তা, আমেরিকার শুল্কনীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান

আগামী দিনেও সদস্য দেশগুলি পরস্পরের পাশে থেকে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি বার্তা দেন। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত সংস্কারের দাবিও।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৩

বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলন থেকে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ১১ দেশের এই জোট কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়। আগামী দিনেও সদস্য দেশগুলি পরস্পরের পাশে থেকে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি বার্তা দেন। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত সংস্কারের দাবিও।

শনিবার বিকেলে ব্রিক্‌স দিল্লি সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ওই ঘোষণাপত্রে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপানোর নিন্দা করা হয়েছে। গত এক বছরে একাধিক দেশের পণ্যের উপর আমেরিকা একতরফা ভাবে শুল্ক চাপিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বার বার সমালোচনা হয়েছে। ব্রিক্‌সের ঘোষণাপত্রে অবশ্য কোনও দেশের নাম করে অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপানোর নীতির যে সমালোচনা করা হয়েছে, তার নিশানায় মূলত আমেরিকার শুল্কনীতিই—এমনটাই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ঘোষণাপত্রে বাণিজ্যে বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও বিরোধিতা করেছে ব্রিক্‌স। এই ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন, খাদ্যসুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকাই। ফলে ব্রিক্‌সের এই অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধান সম্ভব বলে স্পষ্ট করেছে জোট। গাজায় অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে ঘোষণাপত্রে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতি ব্রিক্‌স সমর্থন জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কারের দাবিও বার বার জানিয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই দাবিই ফের জোরালো করলেন। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। মোদীর কথায়, “নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা চলবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর মতে, গত দুই দশকে ব্রিক্‌স যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বিশ্বমঞ্চে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতিও তৈরি করেছে। আগামী দিনে ব্রিক্‌স আরও শক্তিশালী ও বিকশিত হবে বলে আশাবাদী নরেন্দ্র মোদী। অষ্টাদশ ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আজ ব্রিক্‌স আরও পরিণত হওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরস্পরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। বরং, আমরা সকলেকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”

এ দিনের বক্তৃতায় দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলির হয়ে মোদী সওয়াল করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দেশগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা ও সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের কাঠামোকে পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর কথায়, এই পিরামিডের মাথায় যে দেশগুলি রয়েছে, শুধু তারাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। আর পিরামিডের নীচের দিকে থাকা দেশগুলি সেই সিদ্ধান্ত এবং নীতির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে সঙ্কট বেশি থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই দেশগুলি থেকে যায় পিছনের সারিতে।”

দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলির হয়ে এই প্রথম নয়, আগেও বিভিন্ন সময়ে মোদী সরব হয়েছেন। গত বছরে ব্রাজিলে আয়োজিত ব্রিক্‌স সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। বলেছিলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটে এই দেশগুলির পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। এ বার মোদী ফের দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন।


Share