Madrasa Clousre

রাজ‍্য জুড়ে ২৫২টি অনুমোদনহীন খারিজি মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিল সরকার, আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ, ঘোষণা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর

মাদ্রাসা বন্ধের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালদহ। ওই জেলায় ৪৪টি খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে। তার পরেই রয়েছে উত্তর দিনাজপুর। সেখানে ৩৫টি খারিজি মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়েছে রাজ‍্য সরকার।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪১

রাজ‍্য জুড়ে ২৫২টি খারিজি মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝোলাল রাজ‍্য সরকার। এই সমস্ত মাদ্রাসাকে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ‍্য সরকার। এর পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কেন বন্ধ করা হবে না তার জানতে চেয়ে শোকজ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন মাদ্রাসা কোনও ভাবেই চলবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশে রাজ‍্য জুড়ে বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো সরকার খতিয়ে দেখেছে। শনিবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে কলকাতা-সহ রাজ্য জুড়ে এক বিস্তৃত সমীক্ষার কাজ শুরু হয়। প্রতিটি জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠানো হয়। অনুমোদিত, অননুমোদিত, নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, বেসরকারি ও সম্প্রদায় পরিচালিত— সমস্ত ধরনের মাদ্রাসাকে এই সমীক্ষার আওতায় আনা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিকাঠামো, শিক্ষাক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

দফতর সূত্রের খবর, সমীক্ষার যে রিপোর্ট আধিকারিকদের হাতে এসেছে তাতে চোখ কপালে ওঠার মতো বলে দাবি করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, রাজ্যের প্রায় দু’হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদনই নেই। প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি খারিজি মাদ্রাসায় দরজার তালা ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০০টি মাদ্রাসাকে কেন বন্ধ করা হবে না তা জানতে শোকজ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আসা উত্তর সন্তোষজনক না হলে কড়া পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।

মাদ্রাসা বন্ধের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালদহ। ওই জেলায় ৪৪টি খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে। তার পরেই রয়েছে উত্তর দিনাজপুর। সেখানে ৩৫টি খারিজি মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়েছে রাজ‍্য সরকার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ওই জেলায় ৩২টি খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, বীরভূমে ২৭টি, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় মিলিয়ে ৫০টি এবং উত্তর ২৪ পরগনার ১০টি খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে।

রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মাদ্রাসায় ৫৭১৩ কোটি টাকার সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর সুবিধা কতজন শিক্ষার্থী পাচ্ছে এবং কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বা প্রশাসনিক আধিকারিক হতে পেরেছে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। এই টাকা সঠিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং সেখানে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা জরুরি।”

শনিবার আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ‍্যলঘু বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “যাচাইকরণ হয়েছে। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার সব মাদ্রাসা সংক্রান্ত সব নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যে সকল মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে তা সব চালু রয়ছে।”

ফুরফুরা শরিফের ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, “কেন শোকজ করা হবে? কেন বন্ধ করা হবে সেটা আগে মানুষকে জানানো হোক। আমরা (মুসলমান সম্প্রদায়ের) মানুষের কাছে ভীক্ষা করে এই মাদ্রাসা চালাই। কীসের জন্য এমন করা হল? সরকারি অনুমোদন ছাড়া অনেক ক্লাব আছে। সেগুলিকে তো সাহায্য করা হয়। আর অনুমোদন নিতেই বা হবে কেন? মাদ্রাসা মানে ধর্মীয় শিক্ষা নয়। এখন এটাই মানুষের মধ্যে ঢুকে গেছে। ওইখানে ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সরকারি সিলেবাসও পড়ানো হয়।”


Share