Examination Hall

মহিলা পরীক্ষার্থীদের অন্তর্বাস খুলিয়ে ‘তল্লাশি’! হেনস্থার অভিযোগ হাওড়ায়, তদন্তের নির্দেশ স্কুল পরিদর্শকের

পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, তল্লাশির সময় অন্তর্বাস খুলিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে একাধিক পরীক্ষার্থী সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫২

প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) পরীক্ষা ঘিরে হাওড়ার সাঁকরাইলে উঠল গুরুতর অভিযোগ। টোকাটুকি রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে মহিলা পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির নামে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, তল্লাশির সময় অন্তর্বাস খুলিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে একাধিক পরীক্ষার্থী সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলের ডিএলএড পরীক্ষাকেন্দ্র। পরীক্ষার্থীদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই পরীক্ষা শুরুর আগে তাঁদের শরীর ও পোশাক তল্লাশি করা হচ্ছিল। তল্লাশির পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। মহিলা পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থার মহিলা বাউন্সারদের দিয়ে এমন ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ও অস্বস্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, তল্লাশির প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়। এমনকী, সেই পরিস্থিতির ভিডিয়ো করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

শুধু মহিলা পরীক্ষার্থীরাই নন, একই ধরনের তল্লাশি নিয়ে কয়েক জন পুরুষ পরীক্ষার্থীও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে জামা-প্যান্ট খুলিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, টোকাটুকি রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তার নামে ঠিক কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে আদৌ নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ আধিকারিকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক দিলীপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ডিএলএড পরীক্ষার শেষপর্বে সাঁকরাইলের পরীক্ষাকেন্দ্রের তল্লাশি ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ এখন প্রশাসনের তদন্তের আওতায়। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ কতটা সত্য, তল্লাশির ক্ষেত্রে কী ধরনের নির্দেশ ছিল এবং তা মানা হয়েছিল কি না— তদন্তে এখন মূলত এই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।


Share