Child Marriage

শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই বাল্যবিবাহ রুখতে অভিযান, নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় গড়বেতায় গ্রেফতার স্বামী

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ এবং আমনুল্লা খান নামে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, গরবেতা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৬

নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানা এলাকার। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম আমনুল্লা খান। তিনি গড়বেতার আধারনয়ন গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি আমনুল্লার সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে গড়বেতা থানা এলাকারই এক নাবালিকার বিয়ে হয়। বর্তমানে ওই নাবালিকার বয়স ১৬ বছর।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটত ওই নাবালিকার বাপের বাড়ির সদস্যদের। চার বোনের মধ্যে তিনি এক জন। পরিবারের নানা সমস্যার কারণে তাঁর বিয়ে আমনুল্লার সঙ্গে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে ওই ১৬ বছরের নাবালিকাকে চন্দ্রকোনা রোডের একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়। ওই রাতেই সে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বিষয়টি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর গড়বেতা থানায় খবর দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার আমনুল্লাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার গর্ভধারণের মতো ঘটনা রুখতে বাবা-মা, নাবালিকা এবং সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে। কোনও প্রসূতিকে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয় না, সে নাবালিকা হলেও। মানুষ সচেতন হয়ে বাল্যবিবাহের খবর দিচ্ছেন। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করলে এই ধরনের ঘটনা কমবে বলেও জানান তিনি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, বৃহস্পতিবার এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার ফের অন্য এক নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলা জুড়ে অভিযান চলছে।

সম্প্রতি বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি প্রায় ৬০ হাজার মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এরপরই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা জানান তিনি। নাবালিকার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করার পাশাপাশি যে বা যাঁরা এই ধরনের বিয়েতে সহযোগিতা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুরোহিত, কাজি থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও আইনের আওতার বাইরে থাকবেন না বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরই রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার গর্ভধারণের ঘটনা নিয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার হয়েছে। তার মধ্যেই গড়বেতার এই ঘটনায় গ্রেফতারির ঘটনা সামনে এল।


Share