Dharna

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! বিষের বোতল হাতে যুবকের বাড়ির সামনে ধর্নায় তরুণী

সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুলের মা জানিয়েছেন, ওই তরুণী আগে তাঁদের বাড়িতে এলেও ছেলের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে এবং টাকা না দিলে তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

যুবকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলেন তরুণী
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৮

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করেছেন এক যুবক ও তরুণী। কিন্তু আড়াই বছরের সম্পর্কের পর এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন যুবক। শুধু তাই নয়, তরুণীর উপার্জনের টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনই একাধিক অভিযোগ তুলে বিষের বোতল হাতে যুবকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলেন এক তরুণী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার শান্তিপুরের নৃসিংহপুর সাহেবডাঙা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগকারী তরুণী সুমনা খাতুন  শান্তিপুর থানার গোপালপুরের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, প্রায় আড়াই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে রফিকুল মল্লিক নামে ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথাবার্তা হয়। সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় । তরুণীর দাবি, পরবর্তীতে তাঁরা বোম্বেতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। পুনেতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাসও করেছেন।

সুমনার অভিযোগ, রফিকুলের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তাঁর আগের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আগের পক্ষের দুই সন্তানও তাঁর রয়েছে। তরুণীর দাবি, প্রায় এক বছর ধরে রফিকুলের সঙ্গে সংসার করার পর ওই যুবক এখন তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। বরং তিনি অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু বিয়ে করতে অস্বীকার করাই নয়, বিভিন্ন কাজ করে গত এক বছরে সুমনা যে টাকা উপার্জন করেছেন, সেই সমস্ত অর্থও রফিকুলের কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেই টাকা ফেরত দিতেও যুবক অস্বীকার করছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে বারবার কালক্ষেপণের অভিযোগ তুলেছেন তরুণী। তাঁর দাবি, বর্তমানে তাঁর কোনও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না। নানা অজুহাতে তাঁকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিচার চেয়ে বিষের বোতল হাতে রফিকুলের বাড়ির সামনে তিনি ধর্নায় বসেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সমর্থনে আইনি নথি, ছবি ও ভিডিও-সহ একাধিক প্রমাণ রয়েছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্তের পরিবার। রফিকুলের মায়ের দাবি, ওই তরুণী আগে তাঁদের বাড়িতে এলেও ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। হঠাৎ করেই বাড়িতে এসে তিনি বিয়ের দাবি জানাতে শুরু করেন। পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে এবং টাকা না দিলে তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি।

রফিকুলের মায়ের আরও দাবি, তাঁর ছেলে একটি হোটেলে কাজ করেন। গত দেড় বছরে ছেলের উপার্জনের সমস্ত টাকা ওই তরুণী ও তাঁর পরিবার নিয়ে নিয়েছে। এমনকী তাঁদের বাড়ি দখলের চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তাঁরাও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দু’পক্ষকে বসে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি অভিযুক্তের পরিবারের।

এদিকে, বিষের বোতল হাতে তরুণীর ধর্নার খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুমনা। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।


Share